প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে মায়ের অবৈধ সম্পর্কের কথা জেনে যায় নাবালিকা মেয়ে। এরপরই গোপনে সে মায়ের যাবতীয় কীর্তির ভিডিও করে ফেলে। সেই ভিডিওগুলি মাকে দেখিয়ে বাবাকে সব বলে দেওয়ার হুমকি দেয়। এর ফল হয় উল্টো। অভিযোগ, মায়ের মদতেই ওই যুবক একাধিকবার যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করে তাঁর নাবালিকা মেয়েকে। এমনকী, এসব জানাজানি হলেই প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় মা ও মায়ের প্রেমিক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া থানার মল্লিকঘেরি ঘাটপাড়ায়। নাবালিকার অভিযোগের ভিত্তিতে হাড়োয়া থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে অভিযুক্ত মা ও তাঁর প্রেমিককে।

সোমবারই দুজনকে বসিরহাট আদালতে হাজির করায় পুলিশ। হাড়োয়া থানার মল্লিকঘেরি ঘাটপাড়ার বাসিন্দা সদানন্দ মণ্ডল কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকেন। মাসে দু-একবার তিনি বাড়ি ফেরেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই প্রতিবেশী যুবক বিশু অধিকারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়ায় সদানন্দ মণ্ডলের স্ত্রী মিলন মণ্ডল। সদানন্দবাবুর ১৬ বছরের মেয়ে স্কুলছাত্রী। সে প্রায়ই মায়ের এই অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে প্রতিবাদ জানাত বলে দাবি বাবার। কিন্তু সেসব কথায় কর্ণপাত না করে স্বামীর ঘরে না থাকার সুযোগে নাবালিকার মা বিশুকে ঘরেই থাকার সুযোগ করে দেয়। লকডাউনের জন্য মিলনের স্বামী প্রায় তিনমাস বাড়ি ফিরতে পারেননি। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে বিশুর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয় নাবালিকার মা। এরই প্রতিবাদ করে ওই নির্যাতিতা নাবালিকা। অভিযোগ, এর বদলা নিতেই মায়ের মদতেই বিশু একাধিকবার জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে ওই নাবালিকার সঙ্গে। এমনকী, এই ব্যাপারে অন্যদের জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় সে। অবশেষে সদানন্দবাবু বাড়ি ফিরলেই সমস্ত কথা খুলে বলে মেয়ে। তিনিই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যান হাড়োয়া থানায়। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার রাতেই মিলন মণ্ডল ও তাঁর প্রেমিক বিশু অধিকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই নারকীয় ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত মা ও তাঁর প্রেমিকের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী।
إرسال تعليق
Thank You for your important feedback