ব্যাঙ্গালুরুতে স্ত্রীকে মেরে কলকাতায় ফিরে শ্বাশুড়িকেও খুন, এরপর আত্মঘাতী নিজেও



মাত্র কয়েকঘন্টার মধ্যেই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশ। তবে হত্যাকারীকে ধরার আগেই নিজে আত্মহত্যা করে খুনি। হাড়হিম করা এই ঘটনা ঘটেছে কলকাতার ফুলবাগান থানা এলাকার রামকৃষ্ণ সমাধি রোডের অভিজাত রামেশ্বরম আবাসনে। ললিতা ঢনঢনিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে খুন করে আত্মঘাতী হয় অমিত আগরওয়াল (৪২) নামে এক ব্যবসায়ী। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ উদ্ধার করে একটি সুইসাইড নোট। সেটা পড়েই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। ওই ব্যবসায়ী ব্যাঙ্গালুরুতে নিজের স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করে বিমানে চেপে কলকাতায় আসেন। এরপর ফুলবাগানের অভিজাত আবাসনে এসে শাশুড়ির সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন ওই ব্যবসায়ী। বচসার মধ্যেই আচমকা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালিয়ে দেয় শাশুড়ি ললিতা ঢনঢনিয়ার দিকে।




পুলিশের দাবি, একটি ছ’ঘড়ার একটি রিভলভার থেকে অন্তত ছয় রাউন্ড গুলি চালিয়েছে অমিত। এরপর নিজেও আত্মঘাতী হন অমিত আগরওয়াল। সেসময় অমিতের শ্বশুর সুভাষ ঢনঢনিয়া ঘর থেকে পালিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচান। এরপরই পুলিশ এসে অমিতের পকেট থেকে উদ্ধার করে সুইসাইড নোট। সেখানে তিনি লিখেছেন, ব্যাঙ্গালুরুতে নিজের স্ত্রী শিল্পী আগরওয়ালকেও খুন করে কলকাতায় এসেছেন তিনি। ফুলবাগান থানার পুলিশ, যোগাযোগ করেন ব্যাঙ্গালুরু পুলিশের সঙ্গে। এরপরই সেখানকার পুলিশ বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে সামান্য পচন ধরা শিল্পী আগরওয়ালের দেহ উদ্ধার করেছে। অনুমান তাঁকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা আগেই খুন করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অমিত ও শিল্পী দুজনেই চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। কর্মসূত্রে তাঁরা ব্যাঙ্গালুরুতেই থাকতেন। তবে বছর দুয়েক ধরে দুজনের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। এই নিয়েই দুই পরিবারের গোলমাল। শ্বশুর সুভাষ ঢনঢনিয়ার দাবি, সোমবার রাতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা নিয়েই জামাইয়ের সঙ্গে বচসা বাঁধে। এরপরই আচমকা রিভালভার বের করে গুলি চালায় সে। সেই মুহূর্তে তিনি ঘর থেকে পালিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপরই প্রতিবেশীদের সাহায্যে ফুলবাগান থানায় ফোন করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করছে ফুলবাগান থানা এবং কলকাতা গোয়েন্দা পুলিশের হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারা।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

أحدث أقدم