কোথাও নমো নমো, কোথাও বেরোলই না রথ




করোনা ভাইরাসের জেরে দেশজোড়া লকডাউন চলছে। পঞ্চম দফা লকডাউনের মধ্যেই অবশ্য শুরু হয়েছে আনলক পর্ব। তবুও বিভিন্ন জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রেখেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টমন্ত্রক। ফলে রথের রশিতে টান পড়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল অচলাবস্থা। সুপ্রিম কোর্ট পুরীর রথের অনুমতি দিলেও লোক সমাগমে মানা করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ছোট-বড় রথযাত্রা নমো নমো করেই সারা হচ্ছে। কোথাও আবার বেরই হল না রথ। ফলে মাসির বাড়ি যাওয়া হল না জগন্নাথের। অপেক্ষাকৃত ছোট রথে আচার-বিধি পালন করেই ঘরে ফিরলেন ভাই-বোন সহ প্রভু জগন্নাথ। দেখে নেওয়া যাক রাজ্যে করোনা আবহের মধ্যে কোথায় কীভাবে পালিত হচ্ছে রথযাত্রা।

ইসকনের রথ-

কলকাতার ইসকনের রথই সবচেয়ে বড়। এবার করোনা আবহের জন্য ইসকন কর্তৃপক্ষ আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল অনেক আগে থেকেই। সংক্রমণ এড়াতে সাধারণ ভক্তদের রথের ধারে কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছেনা। যারা রথের রশিতে টান দেবেন তাঁরা বিগত ৭০ দিন ধরে হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। কারও সঙ্গেই মেলামেশা করেননি এই কদিন। এদের প্রত্যেকেরই কোভিড টেস্ট হয়েছে। সেই সমস্থ সেবাইতরাই এবার কলকাতায় ইসকনের রথ টানবেন।


মায়াপুরের রথ-

মায়াপুরে এবার রথযাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে। মায়াপুর ইসকনের মূল মন্দিরে বিকালে ছোট করে রথের অনুষ্ঠান হবে মাত্র। তবে ইসকনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল এবার ডিজিটাল রথযাত্রা হবে। লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমেই সারা বিশ্বের ভক্তরা দেখবেন ভার্চুয়াল রথযাত্রা। সেই সঙ্গে মঙ্গলারতিতেও অংশ নিতে পারবেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে।


মাহেশের রথ-

মাহেশের রথ-কথিত আছে, পুরীর পরই স্থান মাহেশের রথের। ৬২৪ বছরের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম বের হচ্ছে না হুগলির মাহেশের রথ। তবে প্রথা মেনে যাবতীয় আচার-বিধি পালিত হবে। হাতেগোনা ভক্ত ও সেবায়েতদের নিয়েই এদিন সকাল থেকে চলছে শ্রী জগন্নাথের পুজোপাঠ। তবে রথ না বের হওয়ায় মন খারাপ মাহেশের। করোনার থাবায় এবছর রথের রশিতে টান পড়ছে না।




অশোকনগরের গোস্বামীবাড়ির রথ-

করোনার জেরে ৬০০ বছর পর এই প্রথম উত্তর ২৪ পরগণার অশোকনগরের গোস্বামী বাড়ির রথের চাকা থমকে গেল। বাংলাদেশের যশোরে ৬০০ বছর আগে আজকের দিনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জগন্নাথ দেবের মূর্তি। পরবর্তী সময়ে দেশভাগের পর গোস্বামী বংশের ক্ষেত্রসেবক গোস্বামী মূর্তি নিয়ে এপার বাংলায় চলে আসেন। তিনি বাসা বাঁধেন অশোকনগরের কাকপুল এলাকায়। সেই থেকে একই নিয়মে এখানে রথযাত্রা উৎসব হয়ে আসছে। কিন্তু এবার সেই রথের রশিতে টান পড়ছে না।



বারুইপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির রথ-

৩০০ বছরে এই প্রথম রথযাত্রায় গড়াবে না বারুইপুর রায়চৌধুরী পরিবারের জগন্নাথ দেবের রথের চাকা। করোনা সংক্রমণ এড়াতে সরকারের আদেশানুসারে বন্ধ রাখা হয়েছে রথযাত্রা। তবে ঐতিহ্য ও প্রথা অনুযায়ী এদিন মন্দিরের নাটমন্দিরে হচ্ছে জগন্নাথদেবের আরাধনা।


Post a Comment

Thank You for your important feedback

أحدث أقدم