সুশান্ত মৃত্যু তদন্তের অভিমুখ এখন বাঙালি অভিনেত্রী রিয়া



সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর গোটা বলিউড যেন ছাই চাপা আগুনের স্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। ক্রমশই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে সুশান্তের মৃত্যু রহস্য। ঘটনার তদন্ত করছে মুম্বই ও বিহার পুলিশ। আর তাতেই ত্রাহি ত্রাহি রব বলিউডে। তবে সবদিক ঘুরে যেন বারেবারেই অভিযোগের কেন্দ্রে চলে আসছেন সুশান্তের শেষ বান্ধবী তথা বাঙালি অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। কিন্তু কেন? সুশান্তের মৃত্যুতে তাঁর কী ভূমিকা? কারণ একটি এফআইআর সব হিসেব ওলটপালট করে দিয়েছে রাতারাতি।

প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের বাবা কে কে সিং মুম্বই পুলিশের ওপর আস্থা হারিয়ে একটি এফআইআর করেছে বিহার পুলিশের কাছে। তাঁর অভিযোগ, ছেলের কেরিয়ার শেষ করে দিতে চাইছিলেন রিয়া, এমনকী, তিনি সুশান্তকে জনসমক্ষে পাগল প্রমাণ করার জন্য মেডিকেল রিপোর্ট ফাঁসের ভয় দেখাতেন। তাঁর আরও দাবি, ২০১৯ সালেও যার কোনও মানসিক সমস্যা ছিল না, সেই কিনা মানসিক রোগের চিকিৎসা করাচ্ছিল? এমনকি রিয়ার জন্যই পরিবারের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ রাখতেন না সুশান্ত। আরও ভয়ানক এক অভিযোগ এনেছেন সুশান্তের বাবা। তাঁর দাবি, একসময় বলিউড, অভিনয়, স্টারডাম সব কিছু ছেড়ে কেরলে অর্গানিক ফার্ম খোলার পরিকল্পনা করেছিলেন সুশান্ত। এরজন্য ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর সঙ্গে যাবতীয় কথাবার্তা সেরেও রেখেছিলেন। কিন্তু আচমকাই সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন সুশান্ত।

অভিযোগ, রিয়া তাঁকে মানসিক চিকিৎসার রিপোর্ট ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিরত করেন। এর থেকে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে সুশান্তকে রীতিমতো ব্ল্যাকমেল করতেন রিয়া। কেকে সিং ওই এফআইআরে আরও জানিয়েছেন, সুশান্তের যাবতীয় ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড নিজের কাছে রাখতেন রিয়া। এমনকি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকাও আত্মসাৎ করেছে রিয়া। কেকে সিংয়ের এই এফআইআরের পর মুম্বই পৌঁছে যায় বিহার পুলিশের এক তদন্তকারী দল। তাঁরা রিয়ার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানোর চেষ্টা করেন। এমনকি কয়েকটি ব্যাঙ্কের শাখাতেও গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। কিন্তু এরপরই রিয়া সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে বসে, সব তদন্ত মুম্বই পুলিশই করুক। এমনকি অন্তবর্তীকালীন জামিনের আবেদনও করেন রিয়া।

সুশান্তের বাবার আরও অভিযোগ, ছেলেকে পাগল প্রতিপন্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন রিয়া। এমনকি তাঁকে অ্যাসাইলেমে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করেছিল সে। তাঁর মারাত্মক অভিযোগ, ডেঙ্গির ওষুধ বলে মানসিক রোগের ওভারডোজ দিয়ে সুশান্তের মানসিক স্থিতাবস্থা নষ্ট করে দিতে শুরু করেছিল রিয়া। পাশাপাশি তাঁর মোবাইল নম্বরও ঘনঘন বদলে দিত সে। আর এই সবটাই সে করত সুশান্তের সিনেমায় নিজেকে নায়িকা হিসেবে নিতে চাপ দিতে। সবমিলিয়ে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বাঙালি অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। সুশান্তের পরিবারের দাবি, রিয়াকে হেফাজতে নিয়ে চাপ দিলেই সব সত্য সামনে চলে আসবে।

পাশাপাশি রিয়া ও পরিচালক মহেশ ভাটের মধ্যে সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। দুজনের বেশ কয়েকটি ঘনিষ্ঠ ছবি সোশাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, তবে কি মহেশকে সামনে রেখেই রিয়া-সুশান্তের সম্পর্কে চিড় ধরে? আর এর জেরেই কী আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তরুণ প্রতিভা সুশান্ত সিং রাজপুত? মুম্বই পুলিশ ইতিমধ্যেই জেরা করেছে বলিউডের তাবড় ব্যক্তিত্বকে। যেমন, আদিত্য চোপড়া, সঞ্জয় লীলা বনসালি, মহেশ ভাট। কিন্তু দোষারোপ ও পাল্টা দোষারোপে কার্যত দিশাহীন তদন্ত।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

أحدث أقدم