
একদিকে কড়া লকডাউন চলছে রাজ্যজুড়েই। তারমধ্যেই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে। এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হতেই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন গ্রামবাসীরা। কোলাঘাট থানা এলাকার কাঁউরচণ্ডী গ্রাম। এই গ্রামের যুবক সুব্রত দাসের ঝুলন্ত দেহ বৃহস্পতিবার ভোররাতেই উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারেই দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এলাকাবাসী জানতেই পারেনি। এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের সমস্ত সন্দেহ গিয়ে পড়ে মৃতের স্ত্রী সুপর্ণা দাসের ওপর।

অভিযোগ, তাঁকে ও তাঁর বাবা-মা সহ কয়েকজন আত্মীয়কে একটি মন্দিরে আটকে রেখে মারধোর করেন গ্রামবাসীরা। এমনকি সুপর্ণার মাথার চুলও খাবলা করে কেটে দেয় গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে তাঁদের উদ্ধার করতে ফের ওই গ্রামে আসে কোলাঘাট থানার পুলিশ। গ্রামবাসীরা পুলিশকেও ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। এক সিভিক ভলেন্টিয়ারকেও মারধোর করা হয়েছে। এরপরই ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হালকা লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এমনকি কয়েকজনকে আটকও করে। বছর দশেক আগে কোলাঘাট থানার কাঁউরচন্ডী গ্রামের সুব্রত দাসের বিয়ে হয়েছিল গোবরা গ্রামের সুপর্ণা দাসের সঙ্গে। তাঁদের একটি সাত বছরের ছেলেও রয়েছে।

গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, সুব্রতকে খুন করা হয়েছে। এবং সেটা স্ত্রী সুপর্ণা ও তাঁর বাবা-মা মিলেই করেছে। কারণ এতবড় একটা ঘটনা গ্রামের কেউ জানতে পারলেন না কেন? প্রতিবেশীদের না জানিয়ে পাশের গ্রামে বাবা-মা কে ফোন করলেন কেন সুপর্ণা? পুলিশই বা কেন চুপিসাড়ে দেহ নিয়ে চলে গেল? সবমিলিয়ে এই অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কাঁউরচণ্ডী গ্রাম। যদিও সুপর্ণার অভিযোগ গ্রামের সকলকে ডাকলেও কেউ আসেনি। বাধ্য হয়ে বাপের বাড়িতে খবর দিয়েছেন তিনি। এরপর বাড়ি থেকে ছুটে আসে সুপর্ণার বাবা-মা ও বোন। জেলা পুলিশের শীর্ষকর্তাদের কথায়, ওই মহিলার মাথার চুল কে বা কারা কেটে নিল সেটা নিয়ে তদন্ত হবে। দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। পুলিশ প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

إرسال تعليق
Thank You for your important feedback