
বিশ্বযুদ্ধেও যে সিনেমা হলের দরজা বন্ধ হয়নি, এবার করোনার জন্য বন্ধ হচ্ছে সেটি। আগস্ট থেকে বন্ধ থাকবে প্যারিসের গ্রান্ড রেক্স সিনেমা হলটি। কারণ, করোনার এই বাজারে ঝুঁকি নিয়ে সিনেমা দেখতে আসছেন না কেউই।
ফ্রান্সের রাজধানীর একেবারে মধ্যস্থলে বিশাল এই রেক্স সিনেমা হল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুরো সময়টাই খোলা ছিল এই হল। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, বহু ফিল্মের রিলিজ আটকে রেখেছে হলিউডের স্টুডিওগুলি। এগুলি গ্রীষ্মকালে ভালো ব্যবসা করতে পারত।
ফেডারেশন অফ ফ্রেঞ্চ সিনেমাস সোমবার জানিয়েছে, চলচ্চিত্র শিল্পে গভীর সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই সঙ্কটে তারা সরকারি সাহায্য চায়। করোনার জন্য লোক কম আসা আর নতুন আমেরিকান ফিল্ম না আসা, দুয়ে মিলে মারাত্মক আঘাত হেনেছে। গ্র্যান্ড রেক্সের ম্যানেজার আলেকজান্দ্রে হেলিমান জানিয়েছে, এই অবস্থায় ৩ আগস্ট থেকে সিনেমা হল বন্ধ করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, এই বাজারে খোলা রাখার থেকে হল বন্ধ রাখলে লোকসান কম হবে।
গ্রান্ড রেক্সে রয়েছে ২,৭০০ আসন। সাতটি পর্দা নিয়ে ইউরোপে এটিই বৃহত্তম। তার পর্দা ৩০০ বর্গমিটারের। গতমাসে আট সপ্তাহের লকডাউনের পর বহু সিনেমা হল কোলার অনুমতি দেওয়া হলেও লোক হয়নি। লকডাউনের সামাজিক দূরত্ববিধি মানতে অর্ধেক হলই খালি রাখতে হচ্ছে।
তারইমধ্যে আশায় শেষ পেরেক পুঁতেছে হলিউড। টপ গান ২, ওয়ান্ডার ওম্যান ১৯৮৪, টেনেট, ডিজনির মুলান ফিল্মগুলি মুক্তি না পাওয়ায় হতাশ হলমালিকরা। পশ্চিম ফ্রান্সের সিনেমাস্কোপ মেগারামার ম্যানেজার অরেলি দিলাগের কথায়, যা ভাবা গিয়েছিল, বাস্তব তার থেকেও ভয়ঙ্কর। এখন ক্ষতির অঙ্কের দিকে তাকাতেই ভয় লাগছে। তবে হলিউডি ফিল্মের অভাবের মাঝেই আশার কথা, ছোট ফরাসি ফিল্মগুলি ভালো ব্যবসা করছে। লকডাউনের পর বক্স অফিসে ভালো রোজগার করছে ডিভোর্স ক্লাব, টাউট সিম্পলেমেন্ট নয়ারের মতো ফরাসি ছোট বাজেটের ছবি। সেপ্টেম্বরের পর মুক্তি পেতে চলেছে বড় বাজেটের কিছু ফরাসি ফিল্মও।
তবে এপর্যন্ত সবমিলিয়ে ছবির ব্যবসা মার খেয়েছে গতবছরের তুলনায় ৭০ শতাংশ। তবে জার্মানির হলগুলি মার খেয়েছে মাত্রই ১৭ শতাংশ। স্পেনে আরও কম, ১৩ শতাংশ।
إرسال تعليق
Thank You for your important feedback