
আনন্দপুরের তিনদিনের শিশুকন্যার রহস্যমৃত্যুর ঘটনার চাঞ্চল্যকর মোড়। অভাবের তাড়নায় ওই শিশুকন্যাকে খুন করেছিলেন মা। এই ঘটনার পর্দাফাঁস করে অবশেষে ওই শিশুর মাকে গ্রেফতার করল আনন্দপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে গত ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখ আনন্দপুরের নোনাডাঙা এলাকায় এক তিনদিনের শিশুকন্যার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। শিশুটির মায়ের দাবি ছিল অসুস্থ হয়েই মারা গিয়েছে সদ্যজাত। আনন্দপুর থানা একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে ২৪ জুলাই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই পুলিশ জানতে পারে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে শিশুটিকে। এরপরই সন্দেহ যায় শিশুটির মা সোনিয়া সেন বাড়ুইয়ের (২১) দিকে। টানা জেরায় অবশেষে ভেঙে পড়েন সোনিয়া। স্বীকার করে নেয় আভাবের তাড়নাতেই তিনি খুন করেছেন তাঁর তিনদিনের শিশুকে। পুলিশের কাছে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর স্বামী সংসারে কোনও টাকা দিতেন না। এমনকি তাঁর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। মেয়ে হওয়ার তিনদিন পরও তাঁর স্বামী মেয়েকে দেখতে আসেননি। তাই তিনি শিশুটিকে খুন করেছেন বলেই দাবি করেন সোনিয়া। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ অনুমান করেছিল মহিলার আরেক ছেলে (সে বয়েসে খুবই ছোট) খেলতে গিয়ে কোনওভাবে চোট দিয়েছিল শিশুটিকে। কারণ শিশুটির শরীরে সামান্য কয়েকটি আঁচড়ের দাগ পায় পুলিশ। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। সন্দেহ গিয়ে পড়ে শিশুটির বাবা ও মায়ের দিকেই। টানা ১২ ঘন্টা জেরার পর ভেঙে পড়েন শিশুটির মা। স্বীকার করে নেন খুনের কথা।
إرسال تعليق
Thank You for your important feedback