
বেসরকারি হাসপাতালের দরজায় অপেক্ষা করতে করতে মৃত্যু হল এক করোনা আক্রান্তের। ফলে ফের এক অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা। পরিবারের অভিযোগ, অগ্রিম ২০ হাজার টাকা দিতে দেরি হওয়ায় চিকিৎসা শুরু করেনি ওই বেসরকারি হাসপাতাল। তার জেরে অ্যাম্বুলেন্সেই এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার পর মৃত্যু হয় ওই রোগীর। মৃতের নাম লায়লা বিবি (৬০), তিনি তমলুকের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, গত ৮ আগস্ট করোনা আক্রান্ত হওয়ায় মহিলার স্বামীকে পার্ক সার্কাসের এক বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছিল। গত শনিবারই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। ওই বৃদ্ধের স্ত্রী লায়লা বিবিও করোনায় আক্রান্ত হন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে ওই নার্সিংহোম থেকে বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। কিন্তু অভিযোগ, মাত্র ২০ হাজার টাকার জন্য ভর্তিই নিতে চায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে এই টানাপোড়েনে অ্যাম্বুলেন্সেই পড়ে থাকেন লায়লা বিবি। প্রায় একঘন্টার বেশি সময় হাসপাতালের বাইরে অ্যাম্বুলেন্সে থাকার পর মৃত্যু হয় তাঁর। পরিবারের অভিযোগ, রোগী ভর্তি করার জন্য ৩ লাখ টাকা দাবি করে ওই বেসরকারি হাসপাতাল।

কিন্তু তাঁরা সেই মুহূর্তে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিতে পারলেও পুরো টাকা দিতে পারেনি। ফলে রোগীকে ভর্তি নেওয়া হয়নি বলেই দাবি পরিবারের। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ডিসান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁদের কথায়, মৃত অবস্থাতেই ওই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুরো ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতার আত্মীয় পরিজন। তাঁদের বক্তব্য, প্রথম দফায় ৮০ হাজার টাকা, পরে রাত ১০টা নাগাদ আরও ২ লক্ষ টাকা অনলাইনে ট্রান্সফার করেন তাঁরা। কিন্তু নেট ব্যাঙ্কিংয়ের অসুবিধার জন্য বাকি ২০,০০০ টাকা রাত ১২টার পর দিতে পারবেন বলে বারবার জানিয়েছিলেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসা শুরু করার জন্য পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করলেও তারা সাড়া দেয়নি বলেই অভিযোগ। ততক্ষণে হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্সে অপেক্ষা করতে করতে করোনা আক্রান্ত মহিলা মারা যান। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বারবার সহযোগিতা করার আশ্বাস দিলেও, এরাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালগুলি আদৌ কতটা কানে তুলছে না। এই ঘটনার পর ফের সেই প্রশ্ন উঠছে। চোখে আঙুল দিয়ে বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবার অসহযোগিতার দিকটি দেখিয়ে দিচ্ছে এই ঘটনা।
إرسال تعليق
Thank You for your important feedback