২ বছরের শিশুকে খুন করে আলমারিতে ভরে রাখলেন জেঠিমা!


নৃশংশ, অমানবিক বা বিভৎস কোনও বিশেষণই বোধহয় এই ঘটনার জন্য কম পরবে। ২ বছরের শিশুকে মুখে কাপড় গুজে খুন করে আলমারিতে ঢুকিয়ে রাখলেন শিশুটির জেঠিমা। পরে শিশুটিকে যখন সকলে খোঁজাখুঁজি করছেন, তখনও নির্বিকার চিত্তে তিনিও যোগ দিয়েছেন সকলের সঙ্গে। পরে অবশ্য ধরা পড়ে যান ওই মহিলা। নারকীয় ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের বোলপুরের কাশীপুর গ্রামে। জানা গিয়েছে পারিবারিক অশান্তির জেরেই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন ওই মহিলা। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, শুক্রবার বিকেল থেকেই শিশুটি নিখোঁজ ছিল। তাঁকে আশেপাশের বাড়িতে না পেয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে জাল দিয়েও খোঁজা হয়। রাতের দিকে পরিবার থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেন। গভীর রাতে পুলিশ আসলে সকলকেই জেরা করা হয়। তখনই সন্দেহ গিয়ে পড়ে শিশুটির জেঠিমা তাজমিন বিবির ওপর। তাঁকে জেরা করতেই ভেঙে পড়েন ওই মহিলা। তাঁর ঘরের আলমারি খুলতেই হতবাক হয়ে যান পুলিশ আধিকারিকরা। দেখা যায়, শাড়ি-চাদরের মাঝে মুখে কাপড় গোজা অবস্থায় মরে পড়ে রয়েছে শিশুটি। পারিবারিক অশান্তির জেরেই এই খুন বলে স্বীকার করেছেন তাজমিন বিবি।
ছবি: অভিযুক্ত জেঠিমা তাজমিন বিবি…
কাশীপুর গ্রামের বাসিন্দা জিয়া খান কযেক বছর আগে বিয়ে করেন একই গ্রামের সম্পা বিবিকে। তাঁদের একমাত্র ছেলে আকিব। বৃহস্পতিবার শম্পার সঙ্গে তাজমিনের অশান্তি হয়। এই অশান্তির জেরেই শুক্রবার বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে দেওয়ালে মাথা ঠুকে আকিবকে খুন করে তাজমিন। এরপর নিজের ঘরের আলমারিতে লুকিয়ে রাখেন তিনি। ইচ্ছে ছিল সুযোগ বুঝে দেহটি লোপাট করে দেবেন। সূত্রের খবর, ধৃত তাজমিন পুলিশকে জানিয়েছে, তাঁর সন্তানের সঙ্গে মৃত শিশুটি খেলা করতো। কিন্তু সবাই আকিবকেই ভালোবাসতেন। তাঁর সন্তান উপেক্ষার শিকার হতো, সেই আক্রোশেই খুন করেছে সে। তবে পুলিশকে ভাবাচ্ছে, একরত্তি শিশুকে খুন করেও কিভাবে এক মহিলা স্বাভাবিক থাকতে পারেন। এমনকি শিশুটিকে যখন খোঁজাখুঁজি চলছে তখনও তিনি নির্বিকার ছিলেন। খুনের ঘটনা জানাজানি হতে তাজমিনার স্বামী তাঁকে মারধোর করেন। যদিও পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। শনিবারই পুলিশ তাজমিনকে আদালতে হাজির করিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই ঘটনায় হতবাক গোটা বোলপুর।

1 تعليقات

Thank You for your important feedback

إرسال تعليق

Thank You for your important feedback

أحدث أقدم