গত শুক্রবার থেকে শারীরিক অবস্থার বিন্দুমাত্র উন্নতি হয়নি বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। পুরোপুরি লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে থাকলেও চিকিৎসায় কোনও রকম সাড়া দিচ্ছিলেন না ভারতীয় সিনেমা ও থিয়েটার জগতের এই কিংবদন্তী। অবশেষে ৪১ দিনের লড়াই থামালেন ‘ফেলুদা’। কালীপুজোর পরদিন রবিবার সকালেই মৃত্যু হল এই বর্ষীয়ান অভিনেতার। দক্ষিণ কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমেও তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন না বলে গতকাল রাতেই জানিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রবিবার ভোরেই হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন তাঁর মেয়ে সহ পরিবারের সদস্যরা। শেষ খবর পাওয়া অনুযায়ী তাঁর মস্তিষ্ক অচল হয়ে গিয়েছিল, তার সঙ্গে মাল্টি অর্গান ফেলিওর হচ্ছিল ধীরে ধীরে। হাসপাতালের তরফে তাঁর পরিবারকে সবটাই জানানো হয়। খবর পেয়েই রবিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার ওই বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছেন মেয়ে পৌলমী বসু। তাঁকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় হাসপাতাল চত্বরেই। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরতেই মিন্টো পার্কে ওই বেসরকারি হাসপাতালের সামনে ভিড় জমান অসংখ্য অনুরাগী। হাসপাতালে ছুটে যান মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের কথায়, ‘সৌমিত্রবাবু এখন এমন জায়গায় ছিলেন, সেখান থেকে ফেরানো কার্য অসম্ভব’। রবিবার ভোরেই হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন তাঁর মেয়ে সহ পরিবারের সদস্যরা। তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিকেল টিমের এক সদস্যের আগেই জানিয়েছিলেন, ‘প্রবীণ অভিনেতার স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলেছে ‘কোভিড এনসেফেলোপ্যাথি’। এর জেরে সব চেষ্টাকেই ব্যর্থ করে দিচ্ছে’। উল্লেখ্য গত ৪০ দিন ধরে নিউরোলজি, নেফ্রোলজি, কার্ডিয়োলজি, ক্রিটিকাল কেয়ার মেডিসিন, আইডি বিশেষজ্ঞ-সহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের একটি দল তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন। তিন দিন আগেই শ্বাসনালিতে অস্ত্রোপচার হয়েছিল সৌমিত্র বাবুর। অস্ত্রোপচার সফলও হয়েছিল। তবুও শারীরিক অবস্থার খুব একটা উন্নতি হয়নি বর্ষীয়ান অভিনেতার। অবশেষে সব চেষ্টাই ব্যর্থ হল রবিবার সকালে।


إرسال تعليق
Thank You for your important feedback