গরুপাচার কাণ্ডে বিএসএফ কর্তার ১৪ দিনের সিবিআই হেফাজত

গরুপাচার চক্রে জড়িত বিএসএফ কমান্ডান্ট সতীশ কুমারকে বুধবার আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালতে হাজির করানো হয়। মালদা ও মুর্শিদাবাদে গরু চোরাচালানের জড়িত থাকার কারণে সতীশ কুমারকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবারই বিএসএফ কর্তাকে কলকাতার নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানেই দিনভর জেরার পর গ্রেফতার করা হয়।

সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতারের পর তাঁকে দীর্ঘ জেরা করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, গরু চোরাচালানের টাকা সতীশ পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আলাদা আলাদা করে রাখতেন। বাকি টাকা নির্মাণ সংস্থা ও অন্যান্য কিছু ব্যবসায় কাজে লাগাতেন। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, সতীশ কুমারের শ্বশুরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকার হদিশ মিলেছে। 

ফলে সিবিআই ওই বিএসএফ কর্তার পরিবারের সকল সদস্যদের অ্যাকাউন্টের তথ্য খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। সতীশকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে মুর্শিদাবাদের একাধিক ছোট ঘাঁটিতে মিটিং হত পাচারের তারিখের আগে। ওই মিটিংয়ে থাকতেন বিএসএফের নিচুতলার কর্মীরা। সেখানেই হত ডিল, আর গরুপাচারের বিভিন্ন সাঙ্কেতিক বার্তা। এই সঙ্কেত এনামুল ও তাঁর দলবল বুঝিয়ে দিতেন বিএসএফ জওয়ানদের। 

জানা যাচ্ছে এক একটি জার্সি গরুর জন্য ডিল হত প্রায় ৩৫-৪৯ লাখ টাকার। আরও জানা গিয়েছে, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বেশ কয়েকজন আধিকারিকদের নিয়মিত মাসোহারা দিতেন এনামুল হক। পাচারের সময় গরুর গায়ে বিভিন্ন কালি দিয়ে চিহ্নিত করা হতো. যার মাধ্যমে বোঝানো হত পাচারের চালান পিছু কত টাকার ডিল হয়েছে।



Post a Comment

Thank You for your important feedback

أحدث أقدم