উদয়ন পণ্ডিতকে আজও ভোলেনি মিশিরডি। ভোলেনি জয়চণ্ডী পাহাড়। বরং উদয়ন পণ্ডিতের মতো মানুষকেই আজ আরও বড় বেশি করে প্রয়োজনl সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় প্রয়াণে সেই কথাই বলছেন হীরক রাজার দেশের সেই উদয়ন পণ্ডিতকে খুব কাছ থেকে দেখা পুরুলিয়ার সংস্কৃতিমনস্ক মানুষজন।
এখনও যেন তাদের চোখের সামনে ভাসছে সেই দৃশ্যl পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলি মিশিরডি গ্রামের ধু ধু মাঠl সেই মাঠ থেকে গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে ছুটে আসছেন উদয়ন পণ্ডিতের চরিত্র অভিনয় করা সৌমিত্রl আর তার পিছনে পাঠশালার পড়ুয়ারা বলছেন, "দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান।" সত্যজিৎ রায়ের হীরকরাজার দেশে ছবির এইটাই ছিল শেষ দৃশ্যl যার শুটিং হয় পুরুলিয়ার আরশার মিশিরডিতে। সেই ছবিতে অভিনয় করা পুরুলিয়ার বাসিন্দা তথা ব্যায়ামবীর অনুপ মুখার্জি বলেন, অভিনয় করার সুযোগে তাঁর মতো শিল্পী সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছিল তাঁরl
একই সাথে রঘুনাথপুরের জয়চণ্ডী পাহাড়ে গুপী-বাঘার সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল সৌমিত্রেরl সেই দৃশ্য শুটিং হয়েছিল এই জয়চণ্ডী পাহাড়েl আজও এখানকার বহু মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে উদয়ন পণ্ডিতের সেই সংলাপ, সেই পণ্ডিতকে দেখতেই রোজ ছুটে যেতেন অনেকে।
সৌমিত্রকে নিয়ে পুরুলিয়ার একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সেই ৭৯সালে। সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশে ছবির শুটিংয়ের তাঁবু পড়েছিল পুরুলিয়ায়। পুরুলিয়ায় সেই প্রথম আউটডোর লোকেসানে প্রথম কোনও ছবির শুটিং হয়। তখন উপযুক্ত কোন পরিকাঠামোই ছিল না পুরুলিয়ায়। পুরুলিয়া শহরের সার্কিট হাউস আর সরকারি বালিকা হাই স্কুলে ছিলেন কলাকুশলীরা। পরে দীরক রাজার সুবাদেই এই জায়গায় গড়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র।
إرسال تعليق
Thank You for your important feedback