হাতে অনেকটাই কম সময় পেয়েছিলেন এসসি ইস্টবেঙ্গলের রিক্রুটাররা। কিন্তু তাও চমকে দেওয়ার মতোই দল তৈরি করে ফেলেছেন তাঁরা। ফলে আশায় বুক বাঁধতেই পারেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। এবারের আইএসএলে অন্যান্য দলগুলির তুলনায় অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যে যথেষ্ঠ ভারসাম্য রাখতে পেরেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। শতবর্ষে পা রেখেছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। এই বছরেই খুশির হাওয়া এনে ক্লাবে ঢুকেছে নতুন ইনভেস্টর, সুযোগ এসেছে আইএসএলেও।
ফলে দল গঠনে যত্নবান হয়েছেন ক্লাব কর্তারা। কোচ হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের একসময়ের তারকা স্ট্রাইকার রবি ফাওলারকে। আইএসএলে প্রথম ম্যাচেই যেহেতু ডার্বি ম্যাচ দিয়ে শুরু করতে হবে এসসি ইস্টবেঙ্গলকে তাই আক্রমণাত্মক মনোভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফাওলার। দলেও রয়েছে একাধিক তারকা ফুটবলার।
বিদেশি ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের তারকা মাঝমাঠের খেলোয়ার জাক মাঘোমা। কঙ্গোর এই ফুটবলার পাঁচ মরশুম খেলেছেন বার্মিংহাম সিটির হয়ে। কঙ্গোর জাতীয় দলেও ২২ ম্যাচ খেলেছেন মাঘোমা। ২০১৭-১৮-য় প্রিমিয়ার লিগে বার্মিংহাম সিটির প্লেয়ার অফ দ্য সিজনের খেতাব জিতেছিলেন তিনি। ৪১৭ ম্যাচে গোল করেছেন ৫৭টি। ইপিএলের এত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মিডিওকে ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারলে তিনিই হবেন ইস্টবেঙ্গলের সেরা অস্ত্র।
এরপরে রয়েছেন দুই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার আয়ারল্যান্ডের অ্যান্থনি পিলকিংটন ও ওয়েলশের অ্যারন আমাদি হলওয়ে। মূলত মাঝমাঠের ফুটবলার হলেও এই দুজন আক্রমণে সিদ্ধহস্ত। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ৩২ বছর বয়সি পিলকিংটন। গোল করতে তিনিও যে সিদ্ধহস্ত সেটার প্রমান তিনি দিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচেই। কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেন এই মিডিও। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন ক্লাবে প্রায় ৪০০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে পিলকিংটনের। খেলেছেন নরউইচ সিটি, কার্ডিফ সিটির মতো দলে।
এদের সঙ্গে রয়েছেন তরুণ ফুটবলার জার্মানির ম্যাটি স্টাইনমান। ২৫ বছরের স্টাইনমান এ বারের আইএসএলে অন্যরকমের ফুটবলের স্বাদ এনে দিতে পারেন। রক্ষণে ভরসা দিতে রয়েছেন ড্যানিয়েল ফক্স, স্কট নেভিলের মতো বিদেশি তারকা। তাঁদের সাহায্য করতে রয়েছেন লালরাম চুলোভা এবং অভিষেক আম্বেদকর।
এসসি ইস্টবেঙ্গলের দেশীয় ফুটবলারও তারকা খচিত। দলে আক্রমণভাগে কোনও বিদেশী ফুটবার না থাকলেও জাতীয় দলে খেলা মিজো তারকা জেজে সেই অভাব পূরণ করে দিতে পারেন। তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য থাকবেন বলওয়ান্ত সিং ও সিকে বিনীথ। তিনজনই ভারতের জাতীয় দলের সদস্য। আইএসএলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তিনজনের।
বলওয়ান্তের আইএসএলে ৯টি গোল রয়েছে। সিকে বিনীথও ১৩টি গোল করে ফেলেছেন আইএসএলে। সদ্য চোট সারিয়ে জেজেও মুখিয়ে রয়েছেন ভালো খেলার জন্য। রবি ফাওলারের হাতে এই তিন ভারতীয় স্ট্রাইকার আরও ক্ষুরধার হয়ে উঠবেন বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। গোলে রয়েছেন দুই অভিজ্ঞ গোলকিপার দেবজিৎ মজুমদার ও শঙ্কর রায়। দুজনেই এর আগে আইএসএলে নিজেদের প্রমান করেছেন। সবমিলিয়ে প্রথম বছরেই দারুণ দল করে অন্যান্য দলকে চমক দিতে প্রস্তুত এসসি ইস্টবেঙ্গল।
গোলকিপার: দেবজিৎ মজুমদার, শঙ্কর রায়, রফিক আলি, মিরশাদ মিচু।
ডিফেন্ডার: অভিষেক অম্বেকর, অনিল চহ্বন, ড্যানিয়েল ফক্স, গুরতেজ সিং, লালরাম চুলোভা, মহম্মদ ইরশাদ, নারায়ণ দাস, এন রোহেন সিং, নভিন গুরুং, রাণা ঘরামি, সামাদ মল্লিক, স্কট নেভিল, প্রীতম সিং।
মিডফিল্ডার: অ্যারন আমাদি হলোওয়ে, অ্যান্থনি পিলকিংটন, বিকাশ জায়রু, ইউজেনসন লিংডো, হাওবাম সিং, জাক মাঘোমা, লোকেন মেতেই, মিলন সিং, মহম্মদ রফিক, শেহনাজ সিং, সুরচন্দ্র সিং, ম্যাটি স্টাইনমান, ওয়াহেংবাম লুয়াং, ইউমনাম সিং।
ফরোয়ার্ড: বলওয়ন্ত সিং, সি কে বিনীত, গিরিক খোসলা, হরমনপ্রীত সিং, জেজে লালপেখলুয়া।

إرسال تعليق
Thank You for your important feedback