এবার তৃণমূল কর্মীকে খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জগদ্দল। বুধবার গভীর রাতে জগদ্দল থানার পালঘাট রোড এলাকায় আকাশ প্রসাদ (২৪) নামে ওই তৃণমূল কর্মীকে একদল দুষ্কৃতী আক্রমণ করে। তাঁকে প্রথমে চপার দিয়ে কোপানো হয়, পরে মৃত্যু নিশ্চিন্ত করতে বোমাও মারা হয়েছে বলেই দাবি এলাকাবাসীর।
মৃতের পরিবারের দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই খুন হয়েছে আকাশ। অপরদিকে তৃণমূলের দাবি, এই খুনের পিছনে দায়ি বিজেপি। জানা গিয়েছে, জগদ্দলের তৃণমূল নেতা সোমনাথ সোমের অনুগামী ছিল আকাশ। এই জন্য তৃণমূলেরই অপর এক গোষ্ঠী তাঁকে হুমকিও দিয়েছিল বলে দাবি আকাশের পরিবারের। তাঁদের অভিযোগের তির আকাশ সাউ নামে এক তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীর দিকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, বুধবার গভীর রাতে পালঘাট এলাকায় আচমকাই বোমাবাজি শুরু হয়। সেইসময়ই আকাশকে কয়েকজন চপার দিয়ে কুপিয়ে খুন করে চম্পট দেয়। যদিও পুরো দাবি অস্বীকার করে স্থানীয় তৃণমূল নেতা সোমনাথ সোমেপ দাবি, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই খুন করেছে আকাশকে। যদিও ভাটপাড়ার তৃণমূলের জয়েন্ট কনভেনার সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, ‘আকাশ প্রসাদ তৃণমুলের কেউ নয়, সে ছিনতাইবাজ এবং তোলাবাজ ছিল।গতকাল ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারাই তাঁকে পিটিয়ে মেরে দেয়’। পরস্পরবিরোধী এই বক্তব্যের জেরে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে।
ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং দাবি করেছেন, ‘মৃত আকাশ দুষ্কৃতীমূলক কার্যকলাপে জড়িত বলেই জানতাম। তৃণমূল করত কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত নই। তবে এই ঘটনায় বিজেপির কোনও যোগ নেই’। তাঁর আরও অভিযোগ, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে পুলিশ, তৃণমূল ও দুষ্কৃতীদের মধ্যে একটা জোট হয়েছে। এলাকা অশান্ত করতেই এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটানো হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে।

إرسال تعليق
Thank You for your important feedback