কথায় বলে মানবিকতা এখনও বেঁচে আছে। আর এই মানবিকতার অনন্য নজির গড়লেন কুলতলির এক যুবক। এক ধর্ষিতা যুবতীকে বিয়ে করলেন তিনি। আমাদের সমাজে যেখানে ধর্ষিতাদের অন্য চোখে দেখা হয় সেখানে এই নজির সত্যিই প্রশংসার যোগ্য বলছেন সমাজতত্ত্ববিদরা। কুলতলি ব্লকের পশ্চিম গোপালগঞ্জের বাসিন্দা নীলাঞ্জনা জানা (নাম পরিবর্তিত)। সে মাতৃগর্ভে থাকাকালীনই তাঁর বাবা আরেকটি বিয়ে করে ভিনরাজ্যে চলে যায়।
তাঁকে জন্ম দেওয়ার পরপরই মৃত্যু হয় মায়ের। ফলে অনাথ সদ্যজাত শিশুটি বড় হয় মাসি, দাদু ও দিদার কাছেই। এভাবেই শিশুবেলা কাটে কোনওরকমে। ১৩ বছর বয়েসেই নীলাঞ্জনার ওপর ফের নেমে আসে অন্ধকার। লাগাতার যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাঁকে। এটা ২০১৩ সালের ঘটনা। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময়ই সে দাদুর যৌন লালসার শিকার হতে থাকে। তাঁর অভিযোগ, একটানা ছয়দিন তাঁকে লাগাতার ধর্ষণ করেছিল তাঁরই দাদু মানিক জানা। ভয়েই সে কাউকে কিছু বলতে পারেনি ছোট্ট নীলাঞ্জনা।
এরপর অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় তাঁর আলাপ হয় শুভঙ্কর মণ্ডল নামে এক যুবকের সঙ্গে। তৈরি হয় প্রেমের সম্পর্ক। নিজের জীবনের সমস্ত ঘটনাই সে খুলে বলে শুভঙ্করকে। প্রেমিকার ওপর নির্যাতনের কথা শুনে দমে না গিয়ে সে যোগাযোগ করে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে। তাঁদের সাহায্যেই কুলতলি থানায় দাদুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে নীলাঞ্জনা। পুলিশ তদন্ত করে গ্রেফতার করে দাদু মানিক জানাকে। ফলে মাসিদের কোপে পড়তে হয় তাঁকে। এমনকি যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়ারও চেষ্টা করে তাঁর মাসিরা।
খবর পেয়ে পুলিশই নীলাঞ্জনাকে উদ্ধার করে সরকারি হোমে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকেই মাধ্যমিক পাস করে সে। ততদিনে স্নাতক হয়ে গিয়েছে শুভঙ্কর। প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেনি শুভঙ্কর। প্রথমে গাড়ি চালিয়ে ও পরে মাছের ব্যবসাও শুরু করেছে সে। অবশেষে নীলাঞ্জনা প্রাপ্তবয়স্ক হতেই নিলাঞ্জনাকে বিয়ের তোড়জোড় শুরু করে শুভঙ্কর। হোম কর্তৃপক্ষের কাছে নিলাঞ্জনাও শুভঙ্করের বিষয়টি জানায়।
এরপর ওই হোমের পক্ষ থেকেই যোগাযোগ করা হয় শুভঙ্করের পরিবারের সঙ্গে। সোমবার কুলতলির পুর্ব গোপালগঞ্জে শুভঙ্করের বাড়িতেই চারহাত এক হল সকলের উপস্থিতিতে। নীলাঞ্জনাকে নিজের মেয়ের মত করেই বাড়িতে তুলেছেন শুভঙ্করের বাবা ও মা। তাঁরাও ছেলের সিদ্ধান্তে গর্বিত। আপাতত অতীত ভুলে নীলাঞ্জনাও চাইছে সামনের দিকে তাকাতে।

إرسال تعليق
Thank You for your important feedback