অতি প্রবণ ঘূর্ণিঝড় আমপান পশ্চিমবঙ্গের উপর আছড়ে পড়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই রাজ্যে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সকাল ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নামে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিমান। প্রটোকল মেনে সেই সময় বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি রাজ্য বিজেপির তরফে বিমানবন্দরে ছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ছিলেন মুকুল রায়, বাবুল সুপ্রিয়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাহুল সিনহা, দেবশ্রী চৌধুরী ও রাজু বন্দ্যেপাধ্যায়। বিমান থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী সোজা বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে গিয়ে ওঠেন। তাঁর সঙ্গে আমপানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে একই হেলিকপ্টারে উঠেছেন রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীও। বিমানবন্দরে ঢোকার মুখে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এটা রাজ্যের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনও সঠিকভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ঝড়ের ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও দুই ২৪ পরগণার বিস্তৃর্ণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। তিনি আরও বলেন, আমফানের জেরে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। প্রধানমন্ত্রী নিজেই ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ঘুরে দেখতে আসছেন। আমরা আকাশপথে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করবো। একঘন্টা লাগবে পুরো এলাকা পরিদর্শন করতে। তিনি আরও বলেন, আকাশপথে রাজারহাট, ভাঙড়, গোসাবা, মিনাখাঁ, সন্দেশখালি-১ ও ২, হিঙ্গলগঞ্জ বসিরহাট এবং কুলতলি, কাকদ্বীপ, ডায়মন্ড হারবার, পাথরপ্রতিমা পরিদর্শন করবেন তাঁরা। এদিন ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালকে সঙ্গে নিয়েই বসিরহাটে এক প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে আমফানের জেরে ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনা করবেন বলে জানা গিয়েছে।

Post a Comment
Thank You for your important feedback