ম্লান মাতঙ্গিনীর কুমোরটুলি


আর মাত্র ৯০ দিনের ব্যবধানেই বাঙালির বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকর্মা, দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো সহ একের পর এক পুজোপার্বনের দিন। সেসব সামলাতে রাস্তার ধারে, মাঠে ময়দানে কোন রকমে ত্রিপল, অস্থায়ী চালাঘরেই চলে প্রতিমা গড়ার কাজ। আর বছরভর এই পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের রুজি-রোজগার সম্বল করে নিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েকশো পরিবার। কিন্তু লকডাউনের মধ্যেই আচমকা আমফানের ঝাপটায় সমস্ত স্বপ্নই এলোমেলো করে দিয়েছে
শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের আস্তাড়া গ্রাম কুমোরটুলি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। কেবল পূর্ব মেদিনীপুর জেলাই নয়, আশপাশের হাওড়া, বারাসাত, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, চন্দ্রকোনা থেকেও বেশির ভাগ থিমের প্রতিমার বরাত আসে প্রায় সারাবছর ধরেই। তাই দুর্গাপুজো শেষ হতে না হতেই ফের শুরু হয়ে যেত প্রতিমা গড়ার কাজ।
কিন্তু সে চিত্র আজ উধাও। কাজেই তীব্র কর্মসঙ্কটের মুখে এখন দুশ্চিন্তায় ঘুম উড়েছে স্বাভাবিক ভাবেই। প্রতিমাশিল্পী অনুপ ঘোড়াই জানান, বাড়তে থাকা করনার প্রভাবে থিমের পুজোর দিন আজ একেবারেই শেষ হয়ে গিয়েছে। জেলার বাইরে বিগ বাজেটের প্রতিমা বরাত আজ বিশবাঁও জলে। এরপর জেলাতেই বিভিন্ন পূজা প্যান্ডেলে লক্ষ টাকার বাজেট কেটে ছেঁটে পনেরো কুড়ি হাজার টাকা থেকে নেমে ৫ হাজার টাকায় এসে ঠেকেছে। আগামী দিনে নিজেদের এই পেশা যে কীভাবে টিকিয়ে রাখবেন তা নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের।‌

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post