
প্রতিবছরই স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লির লালকেল্লায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে হাজির থাকেন কয়েক হাজার মানুষ ও স্কুল পড়ুয়া। কিন্তু ২০২০ সালটি ইতিহাসে এক অন্য অধ্যায় লিখছে প্রতি মুহূর্তে। মারণ করোনা ভাইরাসের আক্রমণে এই বছর বাতিল বা স্থগিত হয়েছে বা হচ্ছে একের পর এক বিগ ইভেন্ট। এবার করোনা থাবা বসালো দেশের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও। প্রতি বছরই ১৫ আগস্ট দেশজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পালিত হয় স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবার নমো নমো করেই সারা হবে যাবতীয় অনুষ্ঠান। দিল্লির লালকেল্লা থেকে যথারীতি পতাকা তুলবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু এবার হাজার খানেক স্কুল পড়ুয়ার ডাক পড়ছে না। এমনকি বিশিষ্ট অতিথি অভ্যাগতদের তালিকাও হবে একেবারেই কম।

সূত্রের খবর, এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য সহ মাত্র আড়াইশোর মতো অতিথি হয়তো আমন্ত্রণ পেতে পারেন দিল্লির লালকেল্লায়। যদিও এটা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে বলে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা দফতরের বিশেষ সূত্রের খবর। এছাড়া সেখানে তৈরি হবে সেফ জোন। পিপিই কিট পড়েই ডিউটি করবেন নিরাপত্তারক্ষীরা। কাঁটছাঁট করা হবে বেশিরভাগ কর্মসূচিই। মধ্য আগস্টে করোনা পরিস্থিতি বিচার করেই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান কাঁটছাঁট করছে। নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এবার রেড রোডের মূল অনুষ্ঠানে বড়সড় কুচকাওয়াজ হবে না। থাকবে না কোনও ট্যাবলোও। অতিথিদের তালিকাও ছোট হবে, সারিবদ্ধ আসন থাকবে না। জানা গিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের অনষ্ঠান আয়োজন করা নিয়ে শুক্রবারই বিভিন্ন রাজ্যকে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এরপরই মূল অনুষ্ঠানের রূপরেখা ঠিক করে নবান্ন। সূত্রের খবর, এবার স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের মূল অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে রাজ্যের প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এই মর্মে প্রতিটি রাজ্যকে কীভাবে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান করতে হবে তারও একটি নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। অনুষ্ঠান হলেও যথাসম্ভব ভিড় এড়িয়ে পতাকা উত্তোলন করতে হবে বলেই জানানো হয়েছে ওই নির্দেশিকায়।
Post a Comment
Thank You for your important feedback