
কয়েকদিন ধরেই কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। বুধবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল ও সোমানবাবুর পরিবার সূত্রে খবর, বুধবার গভীর রাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা। তাঁর মৃত্যুতে কংগ্রেসি রাজনীতির এক অধ্যায়ের শেষ হল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। পুরোনো পেসমেকার বদলের জন্যই তাঁকে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল গত ২১ জুলাই। তাঁর শরীরে ক্রিয়েটিনের মাত্রাও কমে যায়। তাঁর ডায়ালিসিস চলছিল। তবে পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার সকালেও অনেকটা সুস্থ ছিলেন সোমেনবাবু। হাসপাতালে কিছুটা হাঁটাচলাও করেছিলেন, বাড়ির লোকজন ও পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু বুধবার রাত থেকে ফের অবস্থার অবনতি হয়। গভীর রাতেই তাঁর মৃত্যুর খবর টুইট করে জানিয়ে দেয় প্রদেশ কংগ্রেস।
কংগ্রেস রাজনীতিতে ‘ছোড়দা’ বলেই পরিচিত ছিলেন সোমেন মিত্র। তিনি বর্তমানে লুপ্ত হয়ে যাওয়া শিয়ালদা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দীর্ঘসময়ের বিধায়ক ছিলেন। পরে কংগ্রেসের সঙ্গে মতান্তর হওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান। এরপর ২০০৯ সালে তিনি তৃণমূলের টিকিটে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সাংসদ হন। এরপর ২০১৪ সালে তৃণমূল ছেড়ে তিনি ফিরে আসেন প্রদেশ কংগ্রেসে। এরপর প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্ব আসে আসে তাঁর কাঁধে। সোমেন মিত্রের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। তিনি টুইট করে জানান, ‘এই দুঃসময়ে আমি সোমেন মিত্রের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানাই। সোমেনবাবুর প্রতি আমাদের ভালোবাসা চিরকাল থাকবে’। লোকসভার বিরোধী দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর কথায, ‘সোমেনদা আর নেই সেটা ভাবতেই পারছি না। বাংলার রাজনীতির একটা অধ্যায়ের শেষ হল। আমার রাজনৈতিক অভিভাবক, আমাকে জনপ্রতিনিধি করার মূল কারিগর সোমেনদাকে হারিয়ে আমি বেদনাহত’। এদিন সকালেই তাঁর মরদেহ প্রদেশ কংগ্রেস সদর দফতর বিধানভবনে নিয়ে আসা হবে। সেখানেই তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন অনুগামীরা। এরপর বিধানসভা ও বাড়ি হয়ে নিমতলা মহাশ্মশানে হবে শেষকৃত্য। সামাজিক দূরত্ববিধি মেনেই চলবে শ্রদ্ধা জানানোর পালা। সোমেন মিত্রর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।All my love and support to family and friends of Somen Mitra at this difficult time. We will remember him with love, fondness and respect. pic.twitter.com/k1muPvycgT— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) July 30, 2020
Post a Comment
Thank You for your important feedback