
নিয়ম ভাঙার পর আজ ফের নিয়ম মানার দিন। গত বৃহস্পতিবার ছিল সাপ্তাহিক লকডাউনের প্রথম দিন। শুক্রবার ছিল না কোনও লকডাউন। ফলে গতকাল ভিড় উপচে পড়েছিল রাস্তায়। ভিড়ের ঠেলায় শহর কলকাতা সহ লাগোয়া হাওড়া ও দুই ২৪ পরগণার এলাকায় যানযট দেখেছে শহরবাসী। শনিবার সাপ্তাহিক লকডাউনের দ্বিতীয় দিন। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, লকডাউন সফল হলে মিলবে সুফল, কিন্তু বাকি দিনগুলিতেও ভিড়ে রাশ টানতে হবে। নাহলেই বিপদ, আক্ষরিক অর্থেই বিপদ। কারণ বিগত কয়েকদিন রাজ্যে রোজই নতুন করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২০০০ পার করছে। মৃতের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে। রাজ্যে মোট আক্রান্তের সিংহভাগই কলকাতা, হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগণা জেলার। ফলে বেশিরভাগ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন, ভিড়ে রাশ টানতে না পারলে এই সংখ্যাটা দ্বিগুণ বা তিনগুণও হয়ে যাবে অচীরে।

গত বৃহস্পতিবার লকডাউনে অত্যন্য কড়া মনোভাব নিয়েছিল পুলিশ। কলকাতা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেদিন সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত লকডাউন আইন অমান্য করায় মোট ৮৮৬ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বেআইনিভাবে রাস্তায় বের হওয়ায় ৩০টি গাড়ি আটক হয়েছিল। মুখে মাস্ক না দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে জরিমানা দিয়েছেন ৫৫২ জন। এবং রাস্তায় থুথু ফেলায় ৪০ জনকেও জরিমানা করেছিল পুলিশ। শনিবারও সকাল থেকে কড়া মনোভাব নিচ্ছে পুলিশ। রাজ্যজুড়েই পুলিশ প্রশাসন কোমর বেঁধে নেমেছে লকডাউন সফল করতে। রাস্তায় রাস্তায় নাকা চেকিং করে বিনা কারণে রাস্তায় বের হওয়া গাড়ি আটকাচ্ছে পুলিশ। যদিও এদিন রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা। যেন বনধকেও হার মানাচ্ছে এই লকডাউন। কলকাতা পুলিশের বিশেষবাহিনী ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে নজরদারি চালাচ্ছে। যদিও শিয়ালদা, মৌলালি, পার্ক সার্কাসের মতো কিছু এলাকায় রাস্তায় মানুষের দেখা মিলেছে সকাল থেকে। পরে পুলিশ কড়া মনোভাব নেওয়ায় সেটাও উধাও হয়ে যায়।

জেলায় জেলায় চলছে কঠোর লকডাউন। প্রতিটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় রয়েছে পুলিশি নাকা চেকিং। এরমধ্যেই বেআইনিভাবে রাস্তায় বের হওয়ায় আটক হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বীরভূমের দুবরাজপুরে জাল সার্টিফিকেট নিয়ে রাস্তায় বেরোনোয় গ্রেফতার হয়েছেন এক যুবক। তাঁর সঙ্গে থাকা গাড়িটিও আটক করেছে পুলিশ। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, নদিয়া, হুগলি জেলাতেও কড়া মনোভাব নিয়েছে পুলিশ। চলছে টহল, বেআইনিভাবে রাস্তায় বের হলেই ধরা হচ্ছে। শুক্রবারের দেওয়া স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ২২১৬, মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। তবে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বৃহস্পতিবারের তুলনায় কিছুটা কম।

إرسال تعليق
Thank You for your important feedback