লাদাখের পর এবার উত্তরাখণ্ডেও ঘাঁটি গাড়ল চিনা সেনা

 
প্রথমে ডোকালাম, তারপর লাদাখ এবার উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ। চিনা সেনাবাহিনীর আগ্রাসন অব্যহত। সূত্রের খবর, উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ গিড়িপথে চিনা বাহিনীর অস্বিত্ব টের পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে প্রকৃত নিয়ন্ত্রন রেখার (LAC) কাছে বড় মাত্রায় চিনা সেনাবাহিনীর জমায়েত লক্ষ্য করা গেছে। উল্লেখ্য, ওই এলাকা শুধু ভারত-চিন সীমান্তই নয়, ভারত-নেপাল সীমান্তও বটে। ফলে সামরিক গুরুত্বের দিক থেকে উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ গিরিপথ অনেকটাই স্পর্শকাতর। উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় অবস্থিত ওই লিপুলেখ গিড়িপথ। আপাতত পুরো বিষয়ের ওপর কড়া নজর রাখছে ইন্দো-টিবেটিয়ান বর্ডার পুলিশ (ITBP)। গত কয়েকমাস ধরেই এই লিপুলেখ কূটনৈতিক দিক থেকে খবরের শিরোনামে রয়েছে। কারণ নেপালের নতুন বিতর্কিত মানচিত্রে এই এলাকাও নেপালের বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে কূটনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ঠ স্পর্শকাতর এই এলাকা। ভারতের আপত্তি না শুনেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি নেপালের পার্লামেন্টে নতুন মানচিত্র পাস করান। যদিও এই নিয়ে দেশের অভ্য ন্তরেও যথেষ্ঠ চাপে রয়েছেন তিনি।
Lipulekh La CN
ধরচুলা থেকে লিপুলেখ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছে ভারত….
পাশাপাশি কৈলাশ-মানস সরবর যাত্রায় লিপুলেখ অন্যতম এন্ট্রি পয়েন্ট। ফলে ভারত সরকার এই এলাকায় পূণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ধরচুলা থেকে লিপুলেখ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করেছিল। এটা নিয়েই নেপালের আপত্তি। যদিও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, চিনের উস্কানিতেই নেপালের এই লম্ফঝম্ফ। ভারতীয় সেনা সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই লিপুলেখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রন রেখার কাছেই প্রায় ১০০০ চিনা সেনা ঘাঁটি গেড়েছে। তাঁদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সমরাস্ত্র ও রসদও রয়েছে। তবে শুধু উত্তরাখণ্ড নয়, সিকিম ও অরুনাচল প্রদেশেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রন রেখা বরাবর চিনা সেনার গতিবিধি বেড়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। পুরো বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে চিন। তাই তাঁদের সেনাবাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়েছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রন রেখা বরাবর। যা রীতিমতো চিন্তায় ফেলেছে নয়া দিল্লিকে।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post