হাসপাতাল থেকে পালিয়ে ট্রেনেই মৃত্যু হল করোনা আক্রান্তের!




উত্তর প্রদেশের বরেলির বাসিন্দা ৩৫ বছরের এক ক্যান্সার রোগী দিল্লির এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু টাকা প্রায় ফুরিয়ে আসছিল পরিবারের। দিল্লির ওই বড় হাসপাতালের খরচ সামলাতে পারছিলেন না ওই যুবকের স্ত্রী। তাই তাঁকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে দেশের বাড়ি ফিরছিলেন স্ত্রী। সঙ্গে ছিল তাঁদের ছোট ছেলেও। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে ট্রেনেই মৃত্যু হল ওই যুবকের। কিন্তু ঘটনার ট্যুইস্ট এখনও বাকি। ওই যুবক পালানোর পরই জানা যায় তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ। এরপরই ওই ক্যান্সার ও করোনা আক্রান্ত যুবকের খোঁজ শুরু করে দিল্লি পুলিশ। এই খোঁজ করতে গিয়েই পুলিশ জানতে পারে ট্রেনেই মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের। ফলে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হুলুস্থুলু পড়ে যায়। আরপিএফ সঙ্গে সঙ্গেই দেহ উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। যদিও মৃত যুবকের স্ত্রী ও পরিবারের দাবি, হাসপাতাল থেকে পালানোর আগে তাঁরা করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাননি।
রেল পুলিশ জানিয়েছে, বরোলির বকরগঞ্জের বাসিন্দা ওই যুবকের ক্যান্সার ধরা পড়ার পর, দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান তাঁর স্ত্রী। ওই যুবকের ভাইয়ের বাড়িও দিল্লিতে। কিন্তু টাকা-পয়সা ফুরিয়ে আসতেই আর চিকিৎসা করাতে পারবেন না ধরে নিয়ে হাসপাতাল থেকে রোগীকে নিয়ে পালান তাঁরা। তাঁরা রক্সৌল এক্সপ্রেসে বরেলি ফিরছিলেন। কিন্তু ট্রেনটি বরেলির কিছুটা আগে রামপুর স্টেশনের আগে প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয় ওই যুবকের। এবং ট্রেনেই মৃত্যু হয় তাঁর। রামপুর স্টেশনেই রেল পুলিশ দেহ উদ্ধার করে বরেলি পাঠানোর ব্যবস্থা করছিল। কিন্তু তখনই খবর পাওয়া যায় হাসপাতাল থেকে পালানো ওই যুবকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ। এরপরই হুলুস্থুলু পড়ে যায়। ওই কামরায় থাকা প্রতিটি যাত্রীকেই চিহ্নিত করে নমুনা পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে বরেলির প্রশাসন। মৃতের স্ত্রী ও সন্তানকেও কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

أحدث أقدم