৯ ঘন্টার ম্যারাথন জেরা, রিয়ার সম্পত্তি ও জীবনযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন ইডি-র


শুক্রবার সকাল ১১.৫০ নাগাদ মুম্বইয়ের বালার্ড এস্টেট এলাকার ইডির দফতরে হাজির হন অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। তাঁকে ইডির দফতর থেকে বেরোতে দেখা যায় রাত পৌনে ন’টায়। অর্থাৎ একটানা প্রায় ৯ ঘন্টা ধরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তকারীরা জেরা করেন রিয়াকে। আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের (PMLA) আওতায় এদিন রিয়া সহ চারজনের বয়ান রেকর্ড করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডি। উল্লেখ্য, রিয়ার পাশাপাশি তাঁর ভাই সৌভিক চক্রবর্তী, রিয়ার ম্যানেজার শ্রুতি মোদি, চার্টার অ্যাকাউন্টেন্ট রীতেশ শাহকেও জেরা করে ইডির তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের ম্যারাথন জেরায় কোনও বিষয়েই মুখ খোলেননি সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী। দুঁদে গোয়েন্দাদের বেশিরভাগ প্রশ্নই ‘মনে করতে পারছি না’ বলে এড়িয়ে গিয়েছেন। ফলে শুক্রবারের জেরায় একেবারেই সন্তুষ্ট নয় ইডি-র আধিকারিকরা। তাঁরা ফের ১০ আগস্ট রিয়াকে ডেকে পাঠিয়েছে বলে সূত্রের খবর। অপরদিকে সুপ্রিম কোর্টে রিয়ার আবেদনের শুনানি হবে আগামী ১১ আগস্ট। ফলে সুপ্রিম কোর্ট কোনও নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই দুবার ইডি-র জেরার মুখোমুখি হতে হবে রিয়াকে। কারণ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিস্ফোরক তথ্য ইডি-র তদন্তকারী আধিকারিকদের হাতে এসেছে। বার্ষিক ১৪-১৫ লাখ টাকা আয় করা রিয়ার মুম্বইয়ের খার এলাকায় ৮৪ লাখ টাকার সম্পত্তি রয়েছে। সূত্রের খবর,

তদন্তকারীদের রিয়া জানায় এই সম্পত্তি কিনতে ব্যাঙ্ক থেকে ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাকি টাকা কোথা থেকে এল সেটা নিয়ে খোলশা করে বলতে পারেননি রিয়া। অপরদিকে মুম্বইয়েই আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে রিয়ার। যার বাজার মূল্য ৬০ লাখ টাকা। সুশান্তের বাবা কেকে সিং আগেই অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর ছেলের টাকা আত্মসাৎ করেই এত সম্পত্তির মালকিন হয়েছেন রিয়া। ইডি-র গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, সুশান্তের চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে দুটি থেকে বড় অঙ্কের টাকা রিয়ার অ্যাকাউন্টে যায়। পাশাপাশি শপিং করা থেকে ইউরোপ ভ্রমণ সবটাই রিয়া করতেন সুশান্তের ক্রেডিট কার্ড থেকে। এছাড়া যে দুটি সংস্থা খুলেছিল সুশান্ত সিং রাজপুত, সেই দুটিতেই পার্টনার ছিল রিয়া ও তাঁর ভাই সৌভিক। কিন্তু কোম্পানি বিনিয়োগ করার জন্য টাকা একমাত্র সুশান্তই দিয়েছে। ফলে রিয়া চক্রবর্তীর সম্পত্তি, টাকাপয়সা ও বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়েই তদন্তের অভিমুখ ঘুরিয়েছে ইডি।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post