সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার ‘পলাতক’ নেতা বিমল গুরুং। এরপরই পাহাড়ে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। দার্জিলিং, কার্শিয়াং থেকে শুরু করে শিলিগুড়িতেও মিছিল করে বিমল বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা-কর্মীরা। অপরদিকে পাহাড়ের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিমল গুরুংকে সমর্থন ও স্বাগত জানিয়ে পড়ে পোস্টার ও ব্যানার। ফলে পাহাড়ে নতুন করে অশান্তির কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে আসরে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিবদমান দুই নেতার দ্বৈরথের আগুনে জল ঢালতে উদ্যোগী হলেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ৩ নভেম্বর বিনয় তামাংকে নবান্নে ডেকে পাঠিয়েছেন তিনি। জানা যাচ্ছে বিনয় তামাংও যাচ্ছেন নবান্নে। উল্লেখ্য, তিন বছর গা ঢাকা দিয়েছিলেন ফেরার বিমল গুরুং। পুলিশকর্মী খুনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুতর মামলা ছিল তাঁর ওপর। এমনকি ইউএপিএ ধারায় মামলাও ছিল।
কিন্তু আচমকাই পঞ্চমীর দিন কলকাতায় প্রকাশ্যে হাজির হন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি ঘোষণা করেন এনডিএ-র (কার্যত বিজেপি) হাত ছেড়ে তিনি এবার রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গী হবেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে। এরপরই গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার তরফে বিনয় তামাং-অনীত থাপারা এই অবস্থানের বিরোধীতা করেন। পাহাড়ে বিমলের ফেরা নিয়ে বিরোধী মিছিল-বিক্ষোভ শুরু হয়। শনিবারও একটি বিশাল মিছিল হয়েছে কার্শিয়াংয়ে। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগী হলেন দুই পক্ষকে শান্ত করতে। রাজনৈতিক মহলের অভিমত, উত্তরবঙ্গে বিজেপির ক্রমবর্ধমান বাড়বাড়ন্ত নিয়ে চিন্তিত শাসকদল। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ে ভালো ফল করতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাথ খুবই প্রয়োজন। তাই দুই পক্ষকেই শান্ত করে যদি নিজেদের দিকে টেনে আনা যায় তার ফায়দা পাওয়া যাবে একুশের বিধানসভা ভোটে।

إرسال تعليق
Thank You for your important feedback