পুজো কাটতেই ফের আতঙ্কে বঙ্গবাসী। একদিকে সেচদফতরের কংসাবতী ক্যানালের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হল গোটা গ্রাম। অন্যদিকে, সুন্দরবনে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকার নদীবাঁধে ফাটল দেখা দেওয়ায় নতুন করে জল ঢুকতে শুরু করেছে কয়েকটি গ্রামে। বুধবার সকালে আচমকাই ক্যানালের একাংশ ভেঙে জল ঢুকতে শুরু করে বাঁকুড়ার জয়পুর ব্লকের জরকা গ্রামে। ক্যানালের জল ঢুকে গ্রামে কোথাও এক ফুট আবার কোথাও এক হাঁটু জল ঢুকে যায়। খবর পেয়ে বাঁকুড়ার মুকুটমনিপুর জলাধার থেকে ওই সেচ ক্যানালে জল ছাড়া বন্ধ করেছে সেচদফতর। সূত্রের খবর, পুজোর আগেই আমন ধান চাষে সেচের প্রয়োজনে রাইট ব্যাঙ্ক ফিডার ক্যানালে আড়াই হাজার কিউসেক জল ছাড়া শুরু করে সেচদফতর। এই জল ঘাটাল ব্রাঞ্চ ক্যানেলের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের একাংশে। এদিন ভোরে আচমকাই বাঁকুড়ার জয়পুর ব্লকের জরকা গ্রামের কাছে ক্যানালের দুর্বল পাড় ভেঙে যায়। ফলে হুহু করে জল ঢুকতে শুরু করে গ্রামে। চাষের জমি জলের তলায় চলে যায়, অনেক বাড়িতেও জল ঢুকে পড়ে। খবর পেয়েই সেচ দফতরের আধিকারিকরা জল ছাড়া বন্ধ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
অন্যদিকে, আমফানের জেরে নদীবাঁধ ভেঙে জলমগ্ন হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা বাসন্তী ব্লকের সজিনাতলা এলাকা। চাষের জমি থেকে পুকুর সবই ভেসে গিয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু হতেই জল নামতে থাকে সুন্দরবনের সজিনাতলায়। তবে গ্রামবাসীদের আতঙ্ক ছিল দুর্বল বাঁধ নিয়ে। আর বুধবার ভোরে গ্রামবাসীদের আতঙ্ক সত্যি করেই ফের ফাটল দেখা দেয় নদীবাঁধে। মঙ্গলবার রাত থেকেই ফাটল বড় আকার নিতে থাকে। ফলে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিস্তর্ণ এলাকায়। যে কোনো সময় নদী বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে ভেসে যেতে পারে গ্রামের পর গ্রাম। ব্লক প্রশাসনের কাছে তাদের দাবি এই নদী বাঁধের কাজ যাতে খুব তাড়াতাড়ি মেরামত করা হয়। গ্রামবাসীদের দাবি, আমফানের পর এখনও পর্যন্ত মেরামত করা হয়নি সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকার নদীবাঁধ। ফলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে সুন্দরবনবাসীদের মধ্যে।


Post a Comment
Thank You for your important feedback