রাজ্য রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শুভেন্দু অধিকারী। বিগত কয়েকমাস তিনি প্রকাশ্যে আসেননি। কিন্তু ফের প্রকাশ্যে আসতেই নানান ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে জল্পনা উসকে দিচ্ছেন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র এই তৃণমূল নেতা। আর তাঁর মন্তব্যকে ঘিরেই নতুন নতুন জল্পনার জন্ম দিচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে। এরমধ্যেই ফের একবার বোমা ফাটালেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামে এক বিজয়া সম্মেলনী অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী। আর সেখানেই তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘আমি প্যারাসুটে নামিনি এবং লিফটেও উঠিনি। সিড়ি ভাঙতে ভাঙতে ভাঙতে উপরে উঠেছি’। এরপরই তাঁর তোপ, ‘ছোটোলোকদের দিয়ে বাজে কথা বলিয়ে ভেবেছে আমি উত্তর দেব। কুকুর পায়ে কামড়ালে মানুষ কখনও কুকুরের পায়ে কামড়ায় না। আর যতক্ষণ না আমার মুখ থেকে কিছু শুনছেন এই বাজারি সংবাদপত্র পড়ে, টিভি দেখে কিছু ভাববেন না। নিজের কাজ নিজে করুন। কোভিডদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। আমি নিজেই আক্রান্ত। আপনারা দোয়া করেছেন, আশীর্বাদ করেছেন, যত মন্দির আছে, মসজিদ আছে প্রার্থনা করেছেন আমার জন্য। আমি খুব খুশি’।

এই ধরণের বক্তব্যের পরই ফের নতুন করে তোলপাড় হচ্ছে রাজ্যের রাজনীতি। শুভেন্দু আরও বলেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন আমি, আমি করা হল সর্বনাশের মূল’। রাজনৈতিক মহলের অভিমত, নাম না করেই এদিন শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কটাক্ষ করলেন। কারণ কয়েকদিন আগেই শুভেন্দুর নাম না নিয়ে ফিরহাদ হাকিম মেদিনীপুর জেলায় দাঁড়িয়েই কটাক্ষ করেছিলেন পরিবহনমন্ত্রীকে। এদিন তারই পাল্টা দিলেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
তাঁর জনপ্রিয়তা যে এতটুকু কমেনি সেটাও এদিন বুঝিয়ে দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘তিন লাখ মেসেজ পেয়েছি দল-মত-বর্ণ নির্বিশেষে। যাঁরা আমাকে ভোট দেয় না, সমর্থন করে না, মাইকে দাঁড়িয়ে গালাগালি করে, তারাও আমাকে মেসেজ করেছে। কেউ বলেছে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন, কেউ বলছে গেট ওয়েল সুন। আর ফোন করেনি এমন কোনও লোক নেই। দু’একজন করেনি তাদের নাম আমি বলব না। বিপদ হয়ে যাবে’। এরপরেই তাঁর ব্যাখ্যা, জনপ্রতিনিধি হতে গেলে ধৈর্য আর সহ্য এই দুটো ক্ষমতা থাকা দরকার। আমার সহ্য করার ক্ষমতা আছে তাই সহ্য করি। কোনও সমস্যা নেই। সবমিলিয়ে দলের সঙ্গে যে শুভেন্দুর দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে সেটা এবার ধীরে ধীরে পরিস্কার হচ্ছে।

Post a Comment
Thank You for your important feedback