কালীমূর্তির গায়েই খোদাই করা কঙ্কাল, শিরা-উপশিরা ও স্নায়ুতন্ত্র

দক্ষিণবঙ্গের প্রাচীন কালী মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম পূর্ব বর্ধমানের কঙ্কালেশ্বরী কালী মন্দির। এই জেলার বর্ধমান শহরের কাঞ্চননগরে অবস্থিত এই প্রাচীন মন্দিরটি। কথিত আছে এই কাঞ্চননগরই প্রাচীন বর্ধমান শহর। কষ্টিপাথরে খোদাই করা দেবী মূর্তিটি অনেক দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ওই মূর্তি দেখতে অনেকটা কঙ্কালের মতো।  দেবী মূর্তিতে মানব দেহের কঙ্কাল, শিরা উপশিরা স্নায়ুতন্ত্র অপরূপ দক্ষতায় খোদাই করা হয়েছে। মূল মূর্তিটি পাঁচ ফুট লম্বা এবং তিন ফুট চওড়া। দেবী এখানে অষ্টভুজা, শায়িত শিবের নাভি থেকে উৎপন্ন পদ্মে অধিষ্ঠান করছেন দেবী। চালচিত্রে রয়েছে হাতি। ফলে এটি চামুণ্ডা মূর্তি বলেও মনে করেন অনেকে। এখনও চামুণ্ডা মতেই পুজো হয় এখানে। 

 

 

মূর্তির ইতিহাস নিয়েও দ্বিমত রয়েছে। তবে সর্বাধিক প্রচলিত মতে দামোদরের গর্ভ থেকেই আবির্ভুত হয়েছে দেবী মূর্তিটি। একটি মতে, ১৯১৩ থেকে ১৯২৩ ক্রিস্টাব্দের মধ্যে ভয়ানক বন্যায় ভেসে গিয়েছিল কাঞ্চননগর। বন্যার জল নামার পর দামোদরের গর্ভ থেকে এক কষ্টিপাথরের মূর্তি আবির্ভুত হয়।  কমলানন্দ পরিব্রাজক নামে এক সাধক স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মূর্তিটি উদ্ধার করেন।  এবং কাঞ্চননগরের কালী মন্দিরে মূর্তিটি ন্থাপন করেন।  অন্যমতটি বেশি প্রচলিত, ১৯১৬ সাল  নাগাদ কোনও  এক বর্ষার দিনে এই মূর্তিটি দামোদরের পাড়ে উঠে আসে। 

 


পাথরের খণ্ডটি ধোপারা পেয়ে এটার ওপরেই কাপড় কাঁচতেন তাঁরা।  জায়গাটি ছিল দামোদরের বাঁ তীরে খৰ্গেশ্বর  মৌজার বারোদুয়ারি গ্রামে।  এই পাথরটির একদিকে মূর্তিটি খোদিত রয়েছে বলে জানতে পারেন কমলানন্দ পরিব্রাজক। তিনিই ধোপাদের কাছ থেকে পাথরটি উদ্ধার করে বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজা বিজয়চাঁদ মহাতাবের কাছে নিয়ে যান।  তাঁরই উদ্যোগে এই প্রাচীন মূর্তিটি কাঞ্চননগরের কঙ্কালেশ্বরী মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হয়।  



পুরাতত্ত্ববিদদের মতে, এটি বৌদ্ধ বা পাল যুগেরও পূর্বের মূর্তি। তবে মূর্তিটির প্রকৃত সময়কাল আজও জানা যায়নি। অনেকের মোতে এটি ২০০০ বছরের অধিক প্রাচীন।  তবে ঐতিহাসিকদের মতে  বর্ধমানের মহারাজা বিজয়চাঁদ মহাতাবের আমলেই কঙ্কালেশ্বরী কালীমন্দিরটি নতুন রূপে নির্মিত হয়েছে। তিনিই মন্দিরের জন্য এক একর চুয়ান্ন শতক জমি দেন। 

 

 আগে এখানে একটি পঞ্চরত্ন বিষ্ণুমন্দির ছিল, তার পাশেই কঙ্কালেশ্বরী কালীমন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়। মন্দিরের টেরাকোটার কারুকাজ দেখার মতো।  মন্দিরের প্রধান পুরোহিত জানিয়েছেন প্রতিবছর এই মন্দিরে ২৫ হাজার ভক্ত অন্নভোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু এই বছর করোনা আবহে নিয়ম মেনে পুজো হলেও দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষেধ থাকবে। হবে না ভোগ বিতরণ।




Post a Comment

Thank You for your important feedback

أحدث أقدم