সর্বদলীয় বৈঠক দিয়ে রাজ্যে ভোটের দামামা বাজলো

আগামীকালই বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ। তার একদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিল নির্বাচন কমিশন। সোমবারই রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) আরিজ আফতাব। এপ্রিল-মে মাসে নির্ধারিত সময়েই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন করাতে চায় বলে গতকালই এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সুনীল কুমার। এরপরই দ্রুত পদক্ষেপ শুরু করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। 

 

প্রথমেই রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে রাখল কমিশন। উল্লেখ্য, বিহারের মতো এই রাজ্যেও ভোট হবে কোভিড-১৯ সংক্রমণের আবহেই। ফলে বাড়তি সতর্কতা রাখা অতি আবশ্যিক। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে বিহারের মতোই বুথভিত্তিক ভোটারের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি বুথের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বেশ কয়েক দফায় ভোট করাতে পারে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি করোনা অতিমারি প্রকোপ তখন কতটা থাকবে, সেটা নিয়েও থাকছে প্রশ্ন। কিন্তু কোনওরকম জটিলতা রাখতে চায় না নির্বাচন কমিশন। এই সমস্ত বিষয়েই রাজনৈতিক দলগুলির মতামত জেনে নিল কমিশন। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আগামী ১৮ ডিসেম্বর চুরান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে পারে। শীঘ্রই শুরু হচ্ছে তালিকা সংশোধনের কাজ। ভুতূড়ে ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছে বিরোধী দলগুলি। 

বৈঠকের পর বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, ‘সর্ষের মধ্যে ভূত লুকিয়ে আছে। আমরা দাবি জানিয়েছি ত্রুটিহীন ভোটার তালিকা কীভাবে তৈরি করা যাবে সেটার দেখার জন্য। এ রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব লোকবল নেই, সবটাই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ওপর নির্ভর করতে হবে। পুর্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি এখানেই গোলমাল থাকবে। তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যে মোট ৭৮,৯০৩ জন বুথ লেভেল অফিসার লাগবে। তাঁদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ করতে হবে। তাঁর সাফাই, বিহার নির্বাচনে কোনও হিংসা হয়নি, ভোটার লিস্ট নিয়ে কোনও অভিযোগ হয়নি। এখানে কেন এরকম হবে না? প্রায় একই দাবি সিপিএমের। বাম নেতা রবীন দেব জানান, ৭৮,৯০৩ বুথে যাতে ঠিকমতো বসে কাজ করতে পারেন, সেটা নজর রাখতে হবে। নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করতে হবে। এটা কমিশনের দায়িত্ব। 

 

তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সর্বদলীয় বৈঠকে। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস চেয়েছে সমস্ত ভোটার যাতে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেটা দেখার দায়িত্ব কমিশনের। বিএলও-দের মনিটরিংয়ে রাখতে হবে আর পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

أحدث أقدم