মিহিরের পর বসুনিয়া, ফের বেসুরো তৃণমূল বিধায়ক

কোচবিহার তৃণমূলে ফের বিদ্রোহের ইঙ্গিত। কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামীর পর সিতাইয়ের বিধায়ক জগদীশ বর্মা বসুনিয়া সুর চড়ালেন দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতি। তিনি যখন দলের শীর্ষ নেতাদের তুলোধোনা করছেন তখন একই মঞ্চে বসে কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতীম রায়, মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সহ একাধিক নেতা।

পুরো ঘটনায় নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে জেলা রাজনীতিতে। মঙ্গলবার কোচবিহার সিতাই বিধানসভা ভিত্তিক কর্মিসভা ছিল। সেখানই প্রকাশ্যে সিতাইয়ের বিধায়ক জগদীশ বর্মা বসুনিয়া বলেন, ‘লোকসভা নির্বাচনে যারা অন্তর্ঘাত করেছেন, তাঁরাই এখন দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন’। তিনি প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই কর্মীসভায়। 

 

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালেই প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার কর্মীরা দেখা করেন সিতাইয়ের বিধোয়কের সঙ্গে। বিকেলে কর্মীসভায় তিনি সেই প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁদের কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বকে একহাত নিয়ে জগদীশ বর্মা বসুনিয়া বলেন, ‘এখানে চেয়ারে বসে আছে অনেক নেতারা। তাঁদের হাতে কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ। তাঁরা মনেপ্রাণে কোচবিহার জেলা তৃণমূলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে চান নাকি বিজেপিকে উপহার দিতে চান? এটা তাঁদেরই  ঠিক করতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেসকে সংগঠিত করার বদলে কোচবিহার জেলায় তাচ্ছিল্য চলছে। আপনাদেরই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনারাই তাঁর কারিগর’। 


উল্লেখ্য, মঙ্গলবার একই সুর শোনা গিয়েছিল কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামীর ফেসবুক পোস্টে। তিনিও কার্যত খড়গহস্ত হয়েছিলেন তৃণমূলের শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে। এবার আরেক বিধায়কও দলের নেতাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন প্রকাশ্যেই। ফলে কোচবিহার তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব আরও জটিল আকার নিল। 

 

যদিও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। ওই কর্মিসভায় তিনি নিজের ভাষণে ঘুরিয়ে বিদ্রোহী নেতাদেরই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেন। রবীন্দ্রনাথবাবু বলেন, ‘দল না থাকলে পিঠের চামড়া শুধু আমদের নয়, সবারই যাবে। তাই এবারের লড়াই পিঠের চামড়া বাঁচানোর লড়াই’। 


প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হাত থেকে উত্তরবঙ্গের প্রায় সমস্ত আসনই ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগেও বিজেপির পাল্লা অনেকটাই ভারি কোচবিহারে। এরসঙ্গে শাসকদলের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে বিজেপির সুবিধাই হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।



Post a Comment

Thank You for your important feedback

أحدث أقدم