‘যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা’, জেনে নিন ভাইফোঁটার মহত্ব

বছরে দু'টি উৎসবের জন্য ভাই বোনেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে। রাখিবন্ধন উৎসব ও ভাইফোঁটা। আজ রাখিবন্ধনের কথা থাক, কারণ আজ ভাইফোঁটা। ভারত নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধানের দেশ। তবুও ভাইফোঁটা নানা নামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই পালিত হয় দীপান্বিতা অমাবস্যার দ্বিতীয়া তিথিতে। উত্তরভারতে মূলত হিন্দিভাষীদের কাছে এটি ভাইদুজ, পূর্ব ভারতে বাংলা, অসম, ত্রিপুরায় ভাইফোঁটা। মহারাষ্ট্রে, গোয়া ও কর্নাটকে ‘ভৌ বিজ’ বা ‘ভাইবিজ’ এবং দক্ষিণ ভারতে একে যমদ্বিতীয়া বলেও ডাকা হয়ে থাকে। বোন বা দিদিরা ভাই-দাদাদের কপালে চন্দন ও দইয়ের ফোঁটা দিয়ে মঙ্গল কামনা করে থাকে। আর দাদা বা ভাইরাও বোনদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয় এই দিন। এরসঙ্গে অবশ্যই মিষ্টিমুখের পর্ব এবং ভুড়িভোজ। 



ভাইফোঁটা কেন কড়ে আঙ্গুল দিয়েই দিতে হয়?


‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা’

এই প্রচলিত ছড়াই বাংলায় ভাইফোঁটার মন্ত্র। আর ভাইফোঁটা দিতে হয় বা হাতের কড়ে আঙুল দিয়ে। আমরা সাধারণত সব কাজ ডান হাত দিয়েই করে থাকি। কিন্তু ভাই বা দাদাকে ফোঁটা দেওয়ার পবিত্র কাজটি হয় বা হাত দিয়েই। এর পিছনে শাস্ত্রীয় কারণ রয়েছে। সনাতন হিন্দু ধর্মের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মানুষের হাতের ৫টি আঙ্গুল ৫ টি ইন্দ্রিয়ের প্রতীক। ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম। এই ৫টি আঙ্গুলের মধ্যে কড়ে আঙ্গুলকে গন্য করা হয় মহাশূন্যের প্রতীক হিসেবে। শাস্ত্রীয় মতে ভাই ও বোনের সম্পর্কও মহাশূন্যের মতো অসীম। সেই কারণেই ভাতৃদ্বিতীয়ার দিনে বা হাতের কড়ে আঙ্গুল দিয়েই ফোঁটা দিতে হয়। তিথি মেনে দ্বিতীয়াতে ভাইয়ের মঙ্গল কামনার উদ্দেশ্যে উপোস করেন দিদি ও বোনেরা।


 

কালী পুজো কাটলেই ভাইফোঁটা এটাই চিরকালীন দস্তুর। ভাইফোঁটা হয়ে গেলেই একসময় স্কুল খুলে যেত ছোটদের। কিন্তু চলতি বছরে পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। করোনা সংক্রমণের জেরে দুর্গাপুজো থেকে কালীপুজো সবই হয়েছে নমো নমো করে। কিন্তু সেই অর্থে ভাইফোঁটায় নেই কোনও নিষেধাজ্ঞা। কারণ এটি নিতান্তিই ঘরোয়া উৎসব। তাই সোমবার সকাল থেকেই বাসে, ট্রেনে একটু আলাদা ভিড়। সকলেই সেজেগুজে ভাই অথবা দাদার বাড়ির পথে, করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে যমের দুয়ারে কাঁটা দিতে।



Post a Comment

Thank You for your important feedback

أحدث أقدم