নবান্ন দখলের নীল নকশা তৈরিতে হেস্টিংসে বৈঠকে বসেছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। আগামী বছরে যথা সময়েই বিধানসভা ভোট হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাই হাতে সময় কম, এর ওপর কোভিড পরিস্থিতির জন্য প্রচারের কাজও জোরকদমে শুরু করা যাচ্ছে না। এই আবহেই দিল্লির বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব বাংলায় সহ পর্যবেক্ষক করে পাঠিয়েছে অমিত মালব্যকে। তিনি সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান। যেহেতু করোনা আবহেই এবার বিধানসভা ভোট হবে, সেহেতু সোশাল মিডিয়ায় প্রচারের ওপরই জোর দিতে চায় বিজেপির দিল্লির নেতারা। তাই অমিত মালব্যকে বাংলায় বিশেষ দায়িত্ব। সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নড্ডা তাঁর নির্দেশে জানিয়েছেন, বাংলার পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করবেন মালব্য এবং অরবিন্দ মেনন।
এদিনের বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বঙ্গ বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে। রাজ্যকে মূলত পাঁচটি ভাগে ভাগ করে বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনা করা হবে। এই পাঁচ ভাগের দায়িত্ব দেওয়া হল পাঁচ কেন্দ্রীয় নেতার উপর। এদের সাহায্য করবেন রাজ্যস্তরের পাঁচজন। মেদিনীপুর এবং হুগলি দেখবেন সুনীল দেওধর, রাঢ়বঙ্গ দেখবেন বিনোদ সনকার, কলকাতা দেখবেন দুষ্যন্ত গৌতম, নবদ্বীপ দেখবেন বিনোদ তাওরে এবং উত্তরবঙ্গ দেখবেন হরিশ দ্বিবেদী। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সম্পাদক (সংগঠন) বি এল সন্তোষ নিজেও পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাড়তি সময় দেবেন। পাশাপাশি এও জানা যাচ্ছে, বাংলায় কমপক্ষে ৫০ জন কেন্দ্রীয় স্তরের নেতা আসবেন ভোট পরিচালনা করতে।
মেদিনীপুর এবং হুগলি দায়িত্ব পাওয়া সুনিল দেওধর মারাঠী হলেও একজন বাঙালির মতোই বাংলায় কথা বলতে পারেন। গত লোকসভাতেও কলকাতায় কাজ করে গিয়েছেন। সুনীলের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তিনি বারাণসী লোকসভা আসনে মোদির প্রধান সৈনিক ছিলেন। এরপর ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি বিজেপিকে সাফল্য এনে দিয়েছেন। নবদ্বীপের দায়িত্বে থাকা বিনোদ তাওরে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। রাঢ়বঙ্গ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিনোদ সোনকার উত্তরপ্রদেশে ভোট সামলেছেন। যোগী আদিত্যনাথের সরকার গঠনেও তাঁর ভূমিকা অপরিসীম। দুষ্যন্ত গৌতম থাকছেন কলকাতার দায়িত্বে। তিনি মধ্যপ্রদেশে বিজেপি-র সাফল্যে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন। সদ্যসমাপ্ত উপনির্বাচনেও তিনি বিজেপিকে সাফল্য এনে দিয়েছেন।
বৈঠকে ঠিক হয়েছে রাজ্যের যে যে এলাকায় বিজেপির সাফল্যের সম্ভাবনা রয়েছে সেই এলাকাতেও কোনও কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আপাতত যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খুব শীঘ্রই তাঁরা কলকাতায় আসবেন। আর ভোট এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় ঘাঁটি গাড়বেন। রাজনৈতিক মহলের অভিমত, অতীতের সাফল্য থেকে নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এলাকাভিত্তিক জয়ের কৌশল তৈরি করতে চাইছে বিজেপি।

إرسال تعليق
Thank You for your important feedback