রবীন্দ্র সদন থেকে রওনা দিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, উদ্দেশ্য কেওড়াতলা মহাশ্মশান। শববাহী গাড়িতে তাঁর শেষযাত্রার দু। তাঁর শেষযাত্রার রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য অনুরাগী হাজির হয়েছেন। কারোর হাতে ফুল, মালা কারোর হাতে আবার তাঁর ছবি। হাজার হাজার মানুষ করোনা আতঙ্ক ভুলেই আজ রাজপথে হাজির হয়েছেন তাঁদের প্রিয় অভিনেতাকে শেষ দেখা দেখতে। মূল শববাহী শকটের ঠিক পিছনেও অসংখ্য মানুষ হাতে মোমহাতি নিয়ে হাঁটলেন। এই যাত্রায় শামিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। রবীন্দ্র সদন থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশান, এই সংক্ষিপ্ত যাত্রার পরই চিরকালের মতো বিলীন হয়ে যাবেন বাঙালির প্রাণের ‘অপু’।
তবে রয়ে যাবে তাঁর কাজ, সৃষ্টি।অভিনেতার মেয়ে পৌলমী বসু যেমন বলেছেন, ‘দুঃখ করবেন না। আমার বাবার জীবন সেলিব্রেট করুন’। ঠিক তাই, বাঙলা সিনেমা ও নাট্য জগতের কিংবদন্তী অভিনেতাই শুধু নন তিনি, তিনি একাধেরে আবৃতিকার, কবি ও সাহিত্যিকও। ফলে রবীন্দ্র সদন থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া যাওয়ার সময় প্রয়াত অভিনেতার পার্থিব শরীর দেখতে ভিড় চোখে পড়ার মতো। কিংবদন্তিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিকাল পাঁচটার কিছু পর রবীন্দ্র সদনে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষযাত্রায় হাঁটলেনও তিনি।
গল্ফগ্রীনের বাড়িতে সৌমিত্রের মরদেহ
কিছু সময় পর কিংবদন্তি শিল্পীর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় দীর্ঘ কর্মজীবনের সাক্ষী টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে। সেখানেই তাঁর সহকর্মী, শিল্পী, কলাকুশলীরা শেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য জানালেন। শেষকৃত্যের আগে সাড়ে ৩টে থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রবীন্দ্রসদনে দেহ রাখা ছিল তাঁর মরদেহ। সেখানেই সাধারণ মানুষ এবং তাঁর অগণিত অনুরাগীরা শেষ শ্রদ্ধা জানালেন বাঙালির প্রিয় ফেলুদাকে। সাড়ে পাঁচটায় মরদেহ রবীন্দ্রসদন থেকে শোভাযাত্রা সহকারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন কোভিডবিধি মেনেই দেহ যাবে কেওড়াতলায়। এরপর সন্ধ্যা ছটা পঞ্চাশ মিনিট নাগাদ গান স্যালুট দিয়ে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের।





إرسال تعليق
Thank You for your important feedback