রবীন্দ্র সরোবর এবং সুভাষ সরোবরে ছটপুজোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু পূণ্যার্থীরা সেকথা মানতে নারাজ। গতবছরই পুলিশের সামনেই রবীন্দ্র সরোবরের গেটের তালা ভেঙে ঢুকে পড়েছিল একদল পূণ্যার্থী। তাই এবার আগাম সতর্ক কলকাতা পুলিশ এবং কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ। তবুও শুক্রবার সকালে বিক্ষোভ হল রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে চেয়ে। বেশ কয়েকজন মানুষ সরোবরের তিন নম্বর গেটের কাছে বিক্ষোভ দেখালেন, তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, অন্তত ৪ ঘণ্টার জন্য পুজোর অনুমতি দেওয়া হোক। এই সময়ের জন্য ছটপুজো করা হলে সরোবরের কোনও ক্ষতি হবে না। প্রথমে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা বোঝাতে গেলে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। বিক্ষোভকারীরা হুমকি দিতে থাকে অনুমতি না দিলে মূল গেটের সামনেই তাঁরা পুজো করবেন। এরপরই আসরে নামে পুলিশ, তাঁরাই বুঝিয়ে সুঝিয়ে হটিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীদের। এদিন সকাল থেকেই রবীন্দ্র সরোবরের ১, ২ এবং ৩ নম্বর গেটে আগে থেকেই বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। শুক্র ও শনিবার চলবে ছটপুজো, এই দুদিনই কড়া নিরাপত্তায় মোড়া থাকবে শহরের দুটি সরোবর।
কলকাতা পুরসভা আগেই জানিয়ে দিয়েছে গঙ্গার ১৬টি ঘাটের পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ৪৪টি পুকুর ছটপুজোর জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানেই পূণ্যার্থীরা ছটপুজো করতে পারবেন। উল্লেখ্য, জাতীয় পরিবেশ আদালত রবীন্দ্র ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখে কেএমডিএ পরিবেশ আদালতের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রথমে হাইকোর্ট ও পরে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। বৃহস্পতিবারই জরুরীভিত্তিতে শুনানিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত জাতীয় পরিবেশ আদালতের রায়ই বহাল রাখে। ফলে কলকাতার এই দুই সরোবরে ছটপুজো নিষিদ্ধই থাকলো।



Post a Comment
Thank You for your important feedback