হোয়াটসঅ্যাপে অশ্লীল ছবি, লজ্জায় আত্মঘাতী একাদশের ছাত্রী

তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কোনও এক অজানা নম্বর থেকে তাঁরই এক অশ্লীল ছবি পাঠায় কেউ। যদিও ওই নম্বরে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। গত ৮ নভেম্বর ওই ছাত্রী ও অভিভাবকরা থানায় গিয়ে অভিযোগও জানায়। অভিযোগ জগদ্দল থানার পুলিশ এই অভিযোগের কোনও গুরুত্ব দেয়নি। এরপরই ওই ছবি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি আসে। ফলে লজ্জায় অপমানে আত্মঘাতী হল ওই একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী।

 

 চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জগদ্দল থানা এলাকার শ্যামনগর আদিবাসী পাড়া এলাকায়। মৃত ছাত্রীর নাম নিকিতা ওরাও। সে গারুলিয়া গার্লস স্কুলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। সোমবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় নিজের ঘর থেকেই। এই ঘটনার পর তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয় মানুষজন জগদ্দল থানার পুলিশের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফেলতির অভিযোগ জানিয়ে মৃতদেহ উদ্ধারে বাধা দেয়। 

 

তাঁদের অভিযোগ, জগদ্দল থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ জানালেও পুলিশ কোনও গুরুত্ব দেয়নি। সেই কারণেই লজ্জায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে নিকিতা। ঝুলন্ত দেহটি আটকে রেখেই পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে স্থানীয় মানুষজন। পরে কর্তব্যে গাফেলতি হয়ে থাকলে দায়িত্বে থাকা অফিসারকে শাস্তি দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

 

ব্যারাকপুর সিটি পুলিশের এসিপি জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার তদন্ত হবে। যদি কোনও পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফেলতির অভিযোগ প্রমানিত হয় তবে তাঁকে সাসপেন্ড করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ছবিটি সুপার কম্পোজ করেই ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা হয়েছে। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে জগদ্দল থানার পুলিশ।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post