মাত্র দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বাবা কাজ করতেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জলসম্পদ দফতরে। স্বামী ছিলেন বেসরকারি বিমা সংস্থার কর্মী। শ্বশুরবাড়ি হাওড়ার জগাছায়। বিমা এজেন্ট স্বামীর মৃত্যুর পর তিনিও সেই কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। আজ তিনিই কিনা বিহারের নতুন উপমুখ্যমন্ত্রী। হাওড়ার জগাছায় দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন রেণু দেবী। কিন্তু বছর ২০ আগে তিনি বিহারে চলে যান। বর্তমানে জগাছায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে কেউ থাকেন না। শুধু রয়েছেন এক সম্পর্কিত দাদা বাবুন প্রসাদ। এহেন রেণু দেবীর রাজনৈতিক উত্থান কিন্তু রূপকথার চাইতে কম নয়।
১৯৮৮ সালেই স্বামীকে হারিয়েছিলেন রেণু দেবী, তখন তাঁর বয়স খুব অল্প। সংসার চালাতে হাওড়ায় স্বামীর সংস্থা ‘পিয়ারলেস’-এ দীর্ঘদিন বিমার এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু অবশেষে একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বিহারের বেতিয়াতে বাপের বাড়ি চলে যান রেণু দেবী। আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে তিনি পাকাপাকিভাবে বিহারে চলে যান। ১৯৯১ সালে বিশ্ব হিন্দু পরিষদে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এই সময়ই সমস্তিপুরে এল কে আদবানির রথ আটকায় তৎকালীন লালুপ্রসাদের সরকার। রেণু দেবী সেসময় প্রতিবাদের নেতৃত্ব দিয়ে সামনের সারিতে উঠে আসেন।
এই ঘটনাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। একবছরের মধ্যেই তিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মহিলা শাখা দুর্গাবাহিনীর জেলা সভাপতি পদে চলে আসেন। কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা বুঝে ১৯৯৫ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি রেণু দেবীকে নৌতন বিধানসভায় টিকিট দেয়।
সেবার জিততে না পারলেও ২০০০ সালে বিজেপি তাঁকে নিজের জেলা বেতিয়া থেকেই লড়াইয়ের ময়দানে নামায়। সাফল্যও আসে এবার। বেতিয়া থেকে পরপর চারবার তিনি বিধায়ক হয়েছেন। বিহারের মন্ত্রিসভাতেও জায়গা পেয়েছেন অতি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রেণু দেবী। ২০১৫ সালের ভোটে হারলেও এবারের ভোটে ফের জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। এর পুরস্কারও পেলেন হাতেনাতে। রেণু দেবীকে অন্যতম উপমুখ্যমন্ত্রীর পদে বসিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সকলকেই ‘ভাইয়া’ বলে সম্বোধন করা রেণু দেবী বেতিয়ায় ‘দিদি’ বলেই পরিচিত।

إرسال تعليق
Thank You for your important feedback