রাজ্য চাইছে, অফিসের সময়ে ট্রেনের সংখ্যা বেশি থাকুক। তাতে যাত্রীদের বড় অংশের সুবিধা হবে। ভিড়ও এড়ানো যাবে। অপরদিকে রেল কর্তৃপক্ষ চাইছে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০-১৫ শতাংশ লোকাল ট্রেন চলুক এবং ভিড় এড়াতে ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলুক ট্রেন। এই দুই ব্যাপারেই বৃহস্পতিবার আলোচনায় তুফান উঠবে বলেই মনে করছেন সংশ্লীষ্ট মহল। কিন্তু সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন, ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে কিভাবে চালানো সম্ভব শহরতলির লোকাল ট্রেন? রেল বৈঠকে জানিয়েছে, একটি ইএমইউ ট্রেনে সাধারণত ১২০০ যাত্রী বসে যাতায়াত করতে পারেন। এক্ষেত্রে মাত্র ৬০০ যাত্রীকে নিয়েই চালানো হবে ট্রেন।
কিন্তু নিত্যযাত্রীদের প্রশ্ন, অফিস টাইমে কার্যত বাদুরঝোলা হয়েই যাতায়াত করতে হয়, তিল ধরানোর জায়গা থাকে না একেকটি ট্রেনে। সেখানে ৫০ শতাংশ যাত্রী নিলে বাকিদের কী হবে? রেল কর্তাদের একাংশের মধ্যেও এই বিষয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ শহরতলির সিংহভাগ স্টেশনেই প্রবেশ অবাধ, তাই যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করা কার্যত অসম্ভব। আবার অফিস টাইমে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে স্টেশনে স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। ই-পাস নিয়েও তৈরি হয়েছে জল্পনা। কারণ শহরতলির বেশিরভাগ যাত্রীই প্রযুক্তির ব্যাপারে সরগর নয়। তাঁদের কী হবে? প্রশ্ন নিত্যযাত্রীদের। সোমবার বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে ইঙ্গিত মিলেছে মোট্রোর মতো টাইম স্লট অনুযায়ী ই-পাস বুকিং সিস্টেম চালু করা হতে পারে। অর্থাৎ যাত্রীরা নির্দিষ্ট অ্যাপ থেকে নিজেদের সময় মতো ট্রেনের ই-পাস বুক করতে পারবেন। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
এখন বড় প্রশ্ন হল, কবে থেকে কতগুলি লোকাল ট্রেন চলবে? রেলের নিত্যযাত্রীদের দাবি, করোনা সংক্রমণের আগে স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবার সময়ই অফিস টাইমে মাত্রাছাড়া ভিড় হতো শহরতলির ট্রেনগুলিতে। এবার যদি মাত্র ১০-১৫ শতাংশ ট্রেন চালু হয় তবে এই বিপুল সংখ্যক যাত্রী কিভাবে যাতায়াত করবে? পূর্বরেল সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বাদে শিয়ালদা শাখায় দৈনিক ৯১৫টি ও হাওড়া শাখায় দৈনিক ৪০৭টি লোকাল ট্রেন চলতো। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার বৈঠক শেষে জানিয়েছেন, ‘ট্রেন চালানোর সঙ্গে কোভিডের সুরক্ষাবিধিগুলি মেনে চলা বিশেষ জরুরি।
রেল কর্তৃপক্ষ গোটা প্রস্তুতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করে চূড়ান্ত পরিকল্পনার জন্য আগামী ৫ নভেম্বর বিকেলে ফের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন’। রেল সূত্রে খবর, কোন রুটে কোন সময়ে ট্রেন চলবে, ক’টি ট্রেন অল-স্টপ বা গ্যালপিং চলবে তারই চুরান্ত সূচি তৈরির কাজ চলছে। সেইসঙ্গে কোন কোন স্টেশনে লোকাল ট্রেন দাঁড়াবে সেটা নিয়েও ভাবনা চিন্তা চলছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকেই সেটা রাজ্য প্রশাসনকে দেওয়া হবে। যদিও মানবাধিকার সংগঠন এবং নিত্যযাত্রীদের সংগঠনগুলির বক্তব্য, কম ট্রেন চালানো এক্ষেত্রে সমাধান নয়, বরং বেশি ট্রেন চালিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রনে রাখাই কাম্য। এখন দেখার, মাত্র ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে কিভাবে, কতগুলি ট্রেন নিয়ে করোনা পরবর্তী লোকাল ট্রেন পরিষেবা শুরু করা হয়।




إرسال تعليق
Thank You for your important feedback