মঙ্গলবার কাকভোরে এক আরপিএফ কর্মী সপরিবারে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন। তিনি কাটোয়া স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর থানার বাঘাসন গ্রামের ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ আরপিএফ কর্মী সূদেব চন্দ্র দে-র প্রতিবেশীরা প্রথম জানতে পারেন ঘটনা। মেয়ে রিমঝিমের ফোন পেয়েই তাঁদের ঘুম ভাঙে। ছুটে গিয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ডেকে তুলে দোতালায় সুদেববাবুর ঘরের দরজা ভেঙে তিনজনের দেহ উদ্ধার করেন প্রতিবেশীরা।
সেসময় ঘরের ভিতর আটকে ছিল সুদেববাবুর মেয়ে রিমঝিম (১১)। সে প্রাণে বেঁচে গিয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে রেলরক্ষী বাহিনীতে কর্মরত সুদেব চন্দ্র দে (৩৯), তাঁর স্ত্রী রেখা ও ছেলে স্নেহাংশুর (৮)। পরিবার সূত্রে জানা যাচ্ছে, সোমবার রাতেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল অশান্তি বাঁধে। মেয়ে রিমঝিমের কথায়, গভীর রাতে অশান্তি চরমে ওঠে। তখনই ভাইকে নিয়ে ঘর থেকে তাঁকে বেরিয়ে যেতে বলেন সুদেববাবু। কিন্তু সে সেখান থেকে বের হয়নি। তখনই সারা ঘরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় সুদেববাবু। তখনই বুদ্ধি করে এক প্রতিবেশীকে ফোন করে রিমঝিম।
তাঁরাই রিমঝিমকে উদ্ধার করলেও বাকিরা অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন ততক্ষণে। মন্তেশ্বর থানার পুলিশ দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। এটি পারিবারিক অশান্তির জেরে আত্মহত্যার ঘটনা নাকি অন্যকিছু সেটা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গুরুতর জখম রিমঝিম বর্ধমান মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন।


إرسال تعليق
Thank You for your important feedback