একটি ঘরের সোফায় পড়ে মায়ের পচাগলা দেহ, অন্যঘরে বাবার। আর সেখানেই নির্লিপ্তভাবে বসে ছেলে। ফ্ল্যাট থেকে পচা দুর্গন্ধ পেয়েই প্রতিবেশীরা খবর দেয় পুলিশে। পুলিশকর্মীরা এসে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে এই দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন। হতবাক প্রতিবেশীরাও। বুধবার বিকেলে হাওড়ার শিবপুরে এক আবাসনের বাসিন্দারা এমনই এক অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন। শিবপুর থানার পুলিশ এসে দুটি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। সূত্রের খবর, মৃত দম্পতির নাম প্রদ্যুৎ বোস (৭৫) ও গোপা বোস (৭০)। ছেলে শুভজিৎকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক অনুমান, চাকরি সংক্রান্ত হতাশা ও অবসাত থেকেই বাবা-মাকে খুন করেছে ছেলে। তবে কীভাবে খুন সেটা জানা সম্ভব হয়নি দেহগুলিতে অতিরিক্ত পচন ধরায়। তদন্তকারীদের মতে মানসিকভাবে অসুস্থ শুভজিৎ (৪২)। তবে সে বাবা-মাকে খুনের কথা স্বীকার করেছে। প্রতিবেশীদের কথায়, বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁরা ওই দম্পতিকে দেখতে পাচ্ছিলেন না। বিগত দুদিন ধরে তাঁদের বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। বুধবার গন্ধের তীব্রতা বাড়তেই তাঁরা পুলিশে খবর দেয়।
জানা গিয়েছে, উচ্চশিক্ষিত শুভজিৎ যোগ্য চাকরি পাচ্ছিলেন না। ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। প্রদ্যুৎবাবু ব্রিজ অ্যান্ড রুফ কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ছিলেন। মূলত তাঁর পেনশনের টাকাতেই চলতো সংসার। শুভজিৎ এমএসসি পাস করেও চাকরি পায়নি। লকডাউনের ফলে এই সংসারে অভাব আরও প্রকোট হয় বলেই মনে করছেন প্রতিবেশীরা। এই অবসাদ থেকেই বাবা-মাকে খুন করতে পারে বলেই অনুমান সকলের। তবে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, শুভজিৎ নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শিবপুর থানার পুলিশ। মৃতের আত্মীয় স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।

Post a Comment
Thank You for your important feedback