রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো নিষিদ্ধই থাকল সুপ্রিম কোর্টেরা রায়ে। এর আগে জাতীয় পরিবেশ আদালত রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই রায়ের বিরুদ্ধেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। সেখানেও ধাক্কা খেল রাজ্য। সুপ্রিম কোর্টও পরিষ্কার জানিয়ে দিল জাতীয় পরিবেশ আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দেওয়া যাবে না।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি ইউ ইউ ললিত, বিচারপতি বিনীত শরণ এবং বিচারপতি রবীন্দ্র ভাটের ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য সরকারের পিটিশনের শুনানি হয়। বিচারপতিরা এদিন স্থগিতাদেশ না দিয়ে মামলার শুনানি ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, আগামী ১৯ ও ২০ নভেম্বর ছটপুজো পালন করবেন পূণ্যার্থীরা। তাই এবার আর রবীন্দ্র সরোবরে এই পুজো করা সম্ভব নয়।
রায় প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার মূখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘পূণ্যার্থীদের ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা মাথায় রেখেই রাজ্য আবেদন করেছিল সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু স্থগিতাদেশ না মেলায় কোর্টের নির্দেশ মেনেই কেএমডিএ ও রাজ্য সরকার রবীন্দ্র সরোবরের বিকল্প জলাশয়ে ৪৪টি ঘাট ঘাট তৈরি করে দেবে। যাতে পূণ্যার্থীদের কোনও সমস্যা না হয়’।
চলতি বছর করোনা আবহে দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর মতো ছটপুজোতেও কলকাতা হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে ছটপুজোয় শোভাযাত্রা ও বাজি ফাটানো যাবে না। আর জাতীয় পরিবেশ আদালত আগেই জানিয়েছিল রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করা যাবে না। ফলে জোড়া নির্দেশে এবার ছটপুজোর আয়োজন করা যথেষ্ঠই চ্যালেঞ্জ রাজ্য প্রশাসনের। অপরদিকে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কায় স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারাও যথেষ্ট চিন্তিত।
ফলে ইতিমধ্যেই দুই আদালতের রায় এবং স্বাস্থ্য কর্তাদের সাবধানবাণী নিয়ে কলকাতা পুলিশ, কেএমডিএ এবং কলকাতা পুরসভা ছটপুজো নিয়ে কয়েক দফা নির্দেশিকা জারি করেছে। কলকাতা পুরসভা জানিয়েছে, এবার কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ৪৪টি ঘাট তৈরি রাখা হচ্ছে ছটপুজোর জন্য। যাতে বেশি দূর পূণ্যার্থীদের যেতে না হয়। পাশাপাশি গঙ্গার ১৬টি ঘাটেও ছটপুজোর জন্য প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। পুরসভার তরফ থেকে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিলির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এতকিছুর পরও পরিবেশবিদদের চিন্তা সাধারণ মানুষের মানসিকতা নিয়ে। কারণ গতবারও রবীন্দ্র সরোবরের গেটের তালা ভেঙেই পূণ্যার্থীরা ঢুকে পড়েছিলেন। এবার তাই পুলিশ প্রশাসনকে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা।
আবার চলতি বছর আমফানের জেরে রবীন্দ্র সরোবরের পাচিলের বেশ কিছু অংশ ভেঙে পড়েছে। সেগুলিও সারাই করা হয়নি। ফলে ভাঙা পাচিলের ওই ফাঁক গলেও পূণ্যার্থীরা ঢুকে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন রবীন্দ্র সরোবরে প্রাতঃভ্রমণে আসা মানুষজন। সবমিলিয়ে এবার রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো আটকানো একপ্রকার অগ্নিপরীক্ষা রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে।

Post a Comment
Thank You for your important feedback