সুশ্রুষার আড়ালে সাপ বিক্রি, ‘বাপুরাম সাপুড়ে’-কে হাতেনাতে ধরল গ্রামবাসীরা

এলাকায় কোথাও সাপের দেখা মিললেই খোঁজ পরতো তাঁর। ছুটে গিয়ে সেই সাপ উদ্ধার করে সেবা সুশ্রুষা করে সেটিকে জঙ্গলে ছেড়ে দিত বলেই জানতেন এলাকাবাসী। তাই তাঁকে এলাকায় ‘বাপুরাম সাপুড়ে’ বলেই ডাকতেন অনেকে। কিন্তু মুখোশের আড়ালে আরেকটি মুখ ছিল বকখালি ফেজারগঞ্জ থানার শিবপুরের বাসিন্দা নিরাপদ মণ্ডলের (৫৪)। সাপেদের সেবার আড়ালেই চলছিল অন্যরকম কারবার। গোপনে সাপ বিক্রি করেই লাখ লাখ টাকা কামাচ্ছিলেন ‘বাপুরাম সাপুড়ে’ নিরাপদ। 


অবশেষে ভুল ভাঙল এলাকাবাসীর। সাপ বিক্রি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরে পরে গেলেন নিরাপদ মণ্ডল। নিরাপদর হেফাজত থেকে চারটি বিষধর গোখড়ো সাপ উদ্ধার হয়। বীরভুমের দুই ব্যক্তি এসেছিলেন সাপ কিনতে। গ্রামবাসীদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁদের ধরে জেরা করতেই সামনে আসে আসল তথ্য। গ্রামবাসীরাই আটকে রাখেন নিরাপদ মণ্ডল এবং দুই সাপের ক্রেতাকে। বকখালির বনদপ্তরের বিট অফিসে খবর পৌঁছায়। বনদপ্তরের আধিকারিকরা এসে উদ্ধার করেন চারটি গোখরো। এরপর তল্লাশি চালিয়ে নিরাপদর বাড়ি থেকে আরও কয়েকটি সাপ উদ্ধার হয়। 

 


অবশেষে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় নিরাপদকে। গ্রেফতার হয় সাপ কিনতে আসা বীরভূমের দুই বাসিন্দাও। বন দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নিরাপদর বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হবে। তাঁদের আশা আরও সাপ উদ্ধার হবে। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, গ্রাম ও জঙ্গল থেকে সাপ ধরে মোটা টাকায় বিক্রি করত নিরাপদ মণ্ডল। সেগুলি ভিনরাজ্য এবং বাংলাদেশ হয়ে চিনে পাচার হয়ে যেত বলেই জানতে পেরেছে পুলিশ। আর নিরাপদর এই রূপ দেখে হতবাক গ্রামবাসীরা।


Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post