স্ত্রীর সামনেই মৎস্যজীবীকে টেনে নিয়ে গেল কুমির, পরে উদ্ধার দেহ




বুধবার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন পাথরপ্রতিমা ব্লকের গোপালনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিষ্ণুপদ সাঁতরা (৬৮)। স্ত্রীর সামনেই তাঁকে কুমিরে টেনে নিয়ে যায়। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালেই ওই এলাকা থেকে কিছুটা দূরে বৃদ্ধের মৃতদেহ পাওয়া গেল। পুরো ঘটনায় শোকের ছায়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দরিদ্র মৎস্যজীবী স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই প্রতিদিন স্থানীয় জগদ্দল নদীতে মাছ ধরতে যান বৃদ্ধ বিষ্ণুপদ সাঁতরা। স্ত্রী পারেই থাকেন, বৃদ্ধ মাঝনদীতে নৌকো নিয়ে জাল ফেলেন। বুধবারও জাল টানার সময় আচমকা একটি কুমির আক্রমণ করেন বিষ্ণুপদবাবুকে। তাঁকে টেনে নিয়ে সমুদ্রের দিকে চলে যায় কুমিরটি। স্ত্রীর চিৎকারে অন্যান্য মৎস্যজীবী ও আশেপাশের মানুষজন জড়ো হলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বৃদ্ধকে। এরপর খবর যায় পাথরপ্রতিমা থানায়। খবর যায় স্থানীয় বিডিও অফিসেও। তবে সন্ধ্যে পর্যন্ত পুলিশ, বিডিও অফিস ও বনদফতরের কর্মীরা নদীতে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও ওই বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার সকালে মৎস্যজীবীরাই ওই এলাকা থেকে কিছুটা দূরে নদীর পারে দেহটি দেখতে পান। পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। উল্লেখ্য, আমফানের পর এই নিয়ে কুমিরের আক্রমণে দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা। সুন্দরবনের বেশ কয়েকটি এলাকায় নদী বাঁধ ভাঙায় গ্রামেও ঢুকে পড়ছে কুমির। ফলে দিন দিন আতঙ্ক বাড়ছে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায়। পাশাপাশি বাঘের আক্রমণেও মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে বিগত কয়েকদিনে।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post