
ফের কলকাতার বেহালার ছায়া পশ্চিম মেদিনীপুরে। এই জেলার চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকের বসনছোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ডালিমাবাড়ি গ্রামে এক অমানবিক চিত্র দেখল রাজ্যবাসী। করোনার আতঙ্কে প্রায় ২০ ঘন্টা গ্রামেই পড়ে রইল মৃতদেহ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ আসে, এবং দেহটি উদ্ধার করে দেহটি দাহকাজের ব্যবস্থা করে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের বাড়িতেই শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে ভুগছিলেন অমিয় ভট্টাচার্য নামে এক বৃদ্ধ। সোমবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরই ডালিমাবাড়ি গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে করোনার আতঙ্ক। এলাকাবাসীরাই ওই ব্যক্তির দেহ সৎকার করতে বাধা দেন বলে অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, জ্বর, শ্বাসকষ্টের মতো করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গিয়েছেন অমিয়বাবু। তাই আগে করোনা পরীক্ষা করতে হবে। ওই পরিবারের অভিযোগ, বারবার পুলিশ প্রশাসনকে জানালেও এগিয়ে আসেননি কেউ। এমনকি স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফেও কাউকে দেখা যায়নি। ফলে সোমবার বিকেল থেকে বাড়িতেই পড়ে থাকে দেহ।

মঙ্গলবার সকাল থেকেও বারবার পুলিশকে ফোন করেন পরিবার। অবশেষে টনক নড়ে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশের। এদিন সকাল ১১টা নাগাদ পুলিশ আসে ওই গ্রামে। কিন্তু গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়তে হয় পুলিশকেও। তাঁরা গ্রামবাসীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে মৃত ব্যক্তিদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই দাহকার্য করতে দেওয়া হোক। দীর্ঘক্ষণ বোঝানোর পরই অবশেষে গ্রামবাসীরা রাজি হয় অমিয় ভট্টাচার্যের দাহকাজের। এরপরই মৃতের পরিবার গ্রামেরই এক নির্জন স্থানে দেহ দাহ করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, যাঁরা এই দেহ সৎকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের লালারস সংগ্রহ করে পাঠানো হচ্ছে করোনা পরীক্ষার জন্য।
إرسال تعليق
Thank You for your important feedback