আচমকাই কলকাতা মেডিকেল কলেজ কোভিড হাসপাতালের অধ্যক্ষ মঞ্জুশ্রী রায়কে সরিয়ে দিল স্বাস্থ্যদফতর। তাঁর জায়গায় আসছেন এসএসকেএমের প্রাক্তন অধিকর্তা মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আপাতত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপার ইন্দ্রনীল রায় অন্তবর্তীকালীন অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাবেন। আচমকা কেন বদল করা হল অধ্যক্ষকে? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলে। জানা যাচ্ছে, কলকাতা মেডিকেল কলেজকে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই সমস্যার শুরু। জুনিয়র ডাক্তাররা করোনার পাশাপাশি অন্যান্য রোগের চিকিৎসার দাবি আন্দোলনে নামেন। সূত্রের খবর, তাঁদের এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন অধ্যক্ষ মঞ্জুশ্রী রায়। দু সপ্তাহ আগেই নবান্নে কলকাতা মেডিকেল কলেজের বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই পড়ুয়া ডাক্তারদের অ্যাকাডেমিক কেরিয়ার নিয়ে কথা বলতে শুরু করলে মঞ্জুশ্রীদেবীকে থামিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিজ্ঞমহলের একাংশের বক্তব্য, তখনই মঞ্জুশ্রী রায়ের দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অপরদিকে একাংশের বক্তব্য, কোভিড চিকিৎসায় মেডিকেল কলেজের ভূমিকা নিয়েও অসন্তুষ্ট ছিল স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। কারণ এই পরিস্থিতিতে যতটা আশা করা হয়েছিল বাস্তবে তার রূপায়ন হয়নি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, মেডিকেল কলেজ কোভিড হাসপাতালের অধ্যক্ষ মঞ্জুশ্রী রায়কে আরজি কর হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগে প্রফেসর পদে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনি অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি হিসাবেও কাজ করবেন। অপরদিকে যাকে কলকাতা মেডিকেল কলেজে অধ্যক্ষ পদে আনা হল, তিনি গত মাসেই অবসর নিয়েছেন। তাঁর পূর্বতন অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই তাঁকে অবসর থেকে ফিরিয়ে আনা হল। উল্লেখ্য, এনআরএস হাসপাতালের ঘটনায় রাজ্য জুড়ে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনে মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজের প্রধান হিসাবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় তিনি আন্দোলন নিয়ে ‘কড়া ভূমিকা’ নিয়েছিলেন। এবারও প্রায় একই পরিস্থিতিতে কলকাতা মেজিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে ফিরেয়ে এনে মেডিকেল কলেজের সকল স্তরেই বার্তা পাঠাল রাজ্যের স্বাস্থ্যদফতর।

Post a Comment
Thank You for your important feedback