যে তিনটি কাঁটায় বিদ্ধ ইস্টবেঙ্গলের স্পনসর ভাগ্য


কলকাতা ময়দানে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হল ইস্টবেঙ্গলের স্পনসর। পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গল কি এবছরই আইএসএল খেলতে পারবে? এই প্রশ্নেও উত্তাল লাল-হলুদ সমর্থকরা। সূত্রের খবর, ইস্টবেঙ্গল কর্তারা স্পনসর খুঁজে পেলেও আপাতত তিনটি শর্তে আটকে চুক্তি। জানা যাচ্ছে প্রবাসী বাঙালি শিল্পপতি প্রসূন মুখোপাধ্যায় এগিয়ে এসেছেন শতাব্দীর দোরগোড়ায় দাঁড়ানো ইস্টবেঙ্গলে বিনিয়োগ করতে। তাঁর সংস্থা ইউনিভার্সাল সাকসেস এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড এবার ইস্টবেঙ্গলের মূল স্পনসর হতে পারে। এই করোনা কালে আইএসএলে খেলার জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কোনও সংস্থাকে রাজি করাতে বহু কাঠখড় পোড়াতে হযেছে ক্লাবকর্তাদের। অবশেষে বাংলায় শিকড় থাকা প্রসুন মুখোপাধ্যায় এগিয়ে আসেন। তিনি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের আসিয়ান ট্রফিতে খেলার সময় সাহায্য করেছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ওই ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছিল লাল-হলুদ। এবারও তিনি এগিয়ে এলেন, তবে জানা যাচ্ছে তিনটি শর্তে আপাতত থমকে চুক্তির কাজ।

সূত্রের খবর, শেয়ার নিয়ে ক্লাব ও স্পনসর হতে চাওয়া ইউনিভার্সাল সাকসেস সংস্থার মধ্যে দরকষাকষি চলছে। প্রথমে ইস্টবেঙ্গলের তরফে ৪৯ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে রাজি হয়। কিন্তু কোম্পানি এত কমে এই বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে রাজি হয়নি। পরে অবশ্য আগের স্পনসর কোয়েসের মতোই ইউনিভার্সাল সাকসেসকেও ৭০ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে রাজি হয় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু এই চুক্তির সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আইএসএল। কারণ ইতিমধ্যেই আইএসএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আগামী মরশুমে দল বাড়াতে চায়না আইএসএল-এর আয়োজক সংস্থা ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড বা এফএসডিএল। ফলে দলই যদি আইএসএল না খেলে তবে এত টাকা কেন বিনিয়োগ করা হবে? এটাও ভাবাচ্ছে প্রসুন মুখোপাধ্যায়ের সংস্থাকে। তবে যদি এরমধ্যে ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলার সবুজ সংকেত পায়, তবেই চুক্তি হতে পারে বলেই প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। তৃতীয়ত, রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নিয়মে আটকে যাওয়ায় এবছর ইস্টবেঙ্গল তাদের নামের আগে নতুন স্পনসরের নাম ব্যবহার করতে পারবে না বলেই খবর। তাই অতীতের কিংফিশার ও কোয়েসের মতো যদি ইউনিভার্সাল সাকসেস তাঁদের নাম ও লোগো ব্যবহার করতে না পারে তাহলেই বা কী করে বিনিয়োগ হবে? এই প্রশ্নেও চলছে আলোচনা। ফলে এই পরিস্থিতেতে এত প্রতিবন্ধকতা নিয়ে ইউনিভার্সাল সাকসেস ইস্টবেঙ্গলে বিনিয়োগ করবে কিনা সেটা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে ক্লাবের কর্তারা এখনও আশাবাদী খুব শীঘ্রই সমস্ত বাঁধা কাটিয়ে ফেলবে ইস্টবেঙ্গল।

Post a Comment

Thank You for your important feedback

Previous Post Next Post