
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কোঝিকোরের রানওয়েই দুর্ঘটনার মূল কারণ। বিমান চলাচলের পরিভাষায় কোঝিকোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ( Kozhikode International Airport) রানওয়ে হল ‘টেবিলটপ’। অর্থাৎ পাহাড় বা মালভূমির ওপর জমি কেটে রানওয়ে তৈরি করা হলে তাঁকে টেবিলটপ বিমানবন্দর বলা হয়। এই ধরনের বিমানবন্দরের রানওয়ে হয় স্বল্পদৈর্ঘ্যের। কোঝিকোরের যে রানওয়েতে দুর্ঘটনা ঘটেছে (১০ নম্বর রানওয়ে) তার দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ২,৮৫০ মিটার। কিন্তু আসল সমস্যা অন্য জায়গায়। স্বল্পদৈর্ঘ্যের রানওয়ের শেষেই গভীর খাদ রয়েছে। এছাড়া সেফ ল্যান্ডিংয়ের জন্য রানওয়ের দুপাশে প্রয়োজনীয় জায়গাও নেই। ফলে বৃষ্টিতে এই ধরণের রানওয়েতে বিমান নামানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আদর্শ বিধি অনুযায়ী কোনও রানওয়েরে দুপাশে সেফ ল্যান্ডিংয়ের জন্য বাধ্যতামূলক ১৫৫ মিটারের সাইড ট্রিপ এবং ৭০ মিটারের ড্রপ থাকা উচিৎ। জানা যাচ্ছে দশ বছর আগেই এই বিমানবন্দর বৃষ্টির সময় অবতরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে রিপোর্ট দিয়েছিল সিভিল অ্যাভিয়েশন সেফটি অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কোঝিকোরে দুর্ঘটনার সময় দৃশ্যমানতা ছিল ২০০০ মিটার। যা খারাপ আবহাওয়া বলা যায়না। এছাড়া রানওয়ের শেষে খাদের গভীরতা বেশি ছিলনা। এক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জন্য ‘বায়ুমণ্ডলের ঝঞ্জাট’ দায়ী হতে পারে। অর্থাৎ বায়ুর গতিবেগ, গতিমুখ বা বিদ্যুতের চমকের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিমানটির অবতরণে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলেই মনে করছেন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের বিশেষজ্ঞরা। অবতরণের সময় বিমানের শক্তি নিয়ন্ত্রন করতে পাইলটদের সাহায্য নিতে হয় বায়ুর গতিবেগ ও অভিমুখের। ঘন্টায় প্রায় ২৫০ কিমি গতিবেগে নেমে আসা বিমান থামানোর জন্য বায়ুর গতি ও অভিমুখ অনেকটাই সাহায্য করে। এক্ষেত্রে কাছাকাছি নেমে আসার কয়েক মিনিট আগেই হয়তো রানওয়ে দেখতে পেয়েছিলেন পাইলট। তাই বিমানটি নিয়ন্ত্রন হারিয়ে রানওয়ে থেকে পিছলে যায়।

Post a Comment
Thank You for your important feedback