
গালওয়ান উপত্যাকায় ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনায় দুদেশের সেনাবাহিনী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এরপর কয়েকদিন টানটান উত্তেজনার পর দুদেশের কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে পাঁচবার। তবুও মেলেনি সমাধানসূত্র। কারণ লাদাখের প্যাংগং লেক, কয়েকটি ফিঙ্গার পয়েন্ট, দেসপ্যাং এলাকা ও দৌলত বেগ ওল্ডি বিমানঘাঁটির অদূরে এখনও রয়ে গিয়েছে চিনা সেনা। এই পরিস্থিতিতে শনিবার মেজর জেনারেল পর্যায়ের বৈঠকে বসলো ভারত ও চিন। তবে এই বৈঠকের আগেই যে কোনও ঘটনার জন্য ভারতীয় সেনার উচ্চপদস্থ কমান্ডারদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। পাশাপাশি লাদাখ সীমান্ত ছাড়াও হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশের চিন সীমান্তেও চূড়ান্ত সতর্ক রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। প্রায় তিন মাসের বেশি সময় ধরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঘাঁটি গেড়ে বসে রয়েছে চিনা সেনা। এই পরিস্থিতিতেই চিনের ওপর আর ভরসা রাখতে নারাজ নয়া দিল্লি। তারই প্রতিধ্বনি পাওয়া গেল সেনাপ্রধানের গলায়। তিনি ভারতীয় সেনার কমান্ডারদের ‘সর্বোচ্চ যুদ্ধ প্রস্তুতি’ নিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়ে রাখলেন। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে ভারতের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াতের সবুজ সংকেত রয়েছে। সেনাপ্রধান দুদিনের অসম সফর সেরে শুক্রবারই লখনউতে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। মূলত চিন সীমান্ত এলাকা নিয়েই এই বৈঠক হয়। জানা যাচ্ছে, লাদাখের জমি উদ্ধারে কারগিলের মতো সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি তলে তলে নিয়ে রাখছে ভারতীয় সেনা। একইসঙ্গে চলছে চিনের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরের আলোচনা। পাশাপাশি আমেরিকা ও রাশিয়ার সঙ্গেও চিন নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। চিনের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে ভারতের আমেরিকা ও রাশিয়ার সঙ্গ দরকার। তবে আপাতত মেজর জেনারেল পর্যায়ের বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে নয়া দিল্লি।
إرسال تعليق
Thank You for your important feedback