
বুধবারই উত্তর ২৪ পরগণার গাইঘাটায় রামকৃষ্ণ সরকারের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেফতার করে রামকৃষ্ণের স্ত্রী স্বপ্না ও তাঁর প্রেমিক সুজিত দাসকে। রাতভর জেরায় উঠে আসে নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য। জেরায় তাঁরা জানান, মিসড কলের মাধ্যমেই দুজনের আলাপ। সুজিত ছিল রামকৃষ্ণের বন্ধু। অচিরেই সুজিতের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে রামকৃষ্ণের স্ত্রী স্বপ্নার। যা জেনে যায় সুজিত। এই নিয়েই শুরু হয় অশান্তি। স্বপ্নার দাবি, এরজন্য রামকৃষ্ণ তাঁকে মারধোরও করতো। দশমীর রাতে সুজিত রাতে খাওয়া-দাওয়ার নিমন্ত্রন করে রামকৃষ্ণ ও স্বপ্নাকে। সুজিতের গাইঘাটার বাড়িতে আসে দুজন। সেখানেই চলে মদ্যপান। এরপর পাশের একটি বাঁশবাগানে দজনের বচসা শুরু হতেই একটি কাঠের টুকরো দিয়ে মেরে রামকৃষ্ণকে খুন করে সুজিত। এরপরই খুনের কথা স্বপ্নাকে জানায় সুজিত।
স্বপ্নার দাবি অনুযায়ী সমস্ত ঘটনা শুনে তিনি সুজিতকে বলেছিলেন, ‘কেন খুন করলে ওকে? আমাকে যখন ভালোবাসো আমায় নিয়ে পালিয়ে যেতে পারতে’। এরপরই রাতে দুজনে মিলে দেহটি প্লাস্টিকে মুড়ে ঘরের ভিতর খাটের নীচে মাটি খুঁডে পুঁতে দেয়। সেসময় সুজিতের মা সমস্ত ঘটনা দেখে ফেলেন। এবং সেই ঘরেই উপস্থিত ছিল স্বপ্নার পাঁচবছরের ছেলেও।
এরপরই তাঁরা পরিকল্পনা করে যে সুযোগ বুঝে দেহটি টুকরো টুকরো করে কেটে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেবে। কিন্তু বাঁশবাগান ও সুজিতের বাড়ির সামনে চাপ চাপ রক্ত ধুয়ে ফেলতে ভুলে যায় তাঁরা। আর সেই রক্ত দেখেই পুলিশে খবর দেন এলাকার মানুষজন। বুধবার বিকেলে পুলিশ আসতেই স্বপ্নাকে নিয়ে চম্পট দেয় সুজিত। বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টায় ছিল দুজনে। কিন্তু মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেই দুজনকে ধরে ফেলে গাইঘাটা থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুজনকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বনগাঁ আদালত।

Post a Comment
Thank You for your important feedback