পুলওয়ামা কাণ্ডে নিজেদের দায় কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে পাকিস্তান। এরপরই দেশীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এবার সেই উত্তেজনায় নতুন করে ঘি ঢাললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুজরাতে সর্দার বল্লভভাই পটেলের জন্মদিন অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় একতা দিবসে ভাষণ দিতে গিয়ে তুলোধনা করলেন বিরোধীদের। মোদি এদিন নিজের ভাষণে বলেন, ‘পুলওয়মা হামলার পর সন্তানহারা হয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছিল গোটা দেশ। কিন্তু কিছু মানুষ সেই শোকে শামিল ছিলেন না। পুলওয়ামা হামলা নিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির রাস্তাই খুঁজছিলেন তাঁরা’।
শনিবার ছিল প্রধানমন্ত্রীর গুজরাত সফরের দ্বিতীয় দিন। ঘড়ি ধরে সকাল আটটায় প্রধানমন্ত্রীর কনভয় পৌঁছে যায় কেভাডিয়ায় স্ট্যাচু অব ইউনিটির সামনে। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের গগণচুম্বি স্টাচুতে মাল্যদান করেন। এরপরই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বিরোধী দলগুলি মূলত কংগ্রেসকে তীব্র আক্রামণ করেন। এরপর বেলা এগারোটা নাগাদ সিভিল সার্ভিসে নবাগতদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। পৌনে বারোটা নাগাদ কেভাডিয়ায় সি প্লেন সার্ভিস প্রকল্পেরও সূচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক দিনে পড়শি দেশ থেকে যে খবর সামনে এসেছে, সেদেশের সংসদে হামলার কথা মেনে নিয়েছে তাঁরা। যাঁরা এত দিন হামলার কথা অস্বীকার করছিলেন, এবার তাঁদের আসল চেহারা সামনে এসে গিয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থে মানুষ কতটা নীচে নামতে পারে, পুলওয়ামা হামলা-পরবর্তী রাজনীতিই তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ’।
উল্লেখ্য, গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সিআরপি কনভয়ে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় পাক মদতপুষ্ট এক জঙ্গি। তাতে ৪০ জন জওয়ান প্রাণ হারিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সেই সমস্ত শহীদদেরই স্মরণ করে বিরোধীদের কটাক্ষকে তীব্র আক্রমণ করেন এদিন। পাশাপাশি এ দিন নাম না করে পাকিস্তান, চিনকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁর কথায়, ‘সুরক্ষা ক্ষেত্রেও আত্মনির্ভর হচ্ছে দেশ। ভারতের দিকে চোখ তুলে তাকালে জবাব দিতে তৈরি জওয়ানরা’।
এরপরই তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস মোকাবিলায় বহু জোয়ান প্রাণ দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদ কারও ভাল করে না। তাই সন্ত্রাসের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে জোট বেঁধে লড়াই করতে হবে। যদিও এর জবাব ভারত ভালোভাবেই দিতে জানে। আজ শক্ত ভিতের ওপর দাড়িয়ে দেশ, তাই কড়া জবাব দিতেও তৈরি ভারত’।
রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, পুলওয়ামা নিয়ে ভারতের কাউন্টার অ্যাটাককে কটাক্ষ করে বা প্রশ্নচিহ্ন তুলে লোকসভা ভোটের মুখে ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এবার পাকিস্তানের মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধরী পাক সংসদে দাঁড়িয়েই স্বীকার করে নিয়েছেন ভারতের হামলার (সার্জিক্যাল স্ট্রাইক) কথা। ফলে এবার খোলাখুলি বিরোধীদের তুলোধনা করতে পিছপা হলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

إرسال تعليق
Thank You for your important feedback