সোশাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করে এই রাজ্যে অনেককেই পুলিশি হেনস্থার শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে বিরোধী মত প্রকাশ করে রাজ্য সরকার বা শাসকদলের সমালোচনা করে কোনও পোস্ট করলেই পুলিশ এফআইআর (FIR) করে তাঁদের গ্রেফতার করছে। এর ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে। এই সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত কলকাতা পুলিশকে কার্যত কড়া ধমক দিল।
একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করলে কাউকে হেনস্থা করা যায় না। পাশাপাশি সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, সরকারের সমালোচনা করে কিছু পোস্ট করলেই তা FIR করার মতো ধর্তব্যযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হয় না। লকডাউনের প্রথম দিকে কলকাতার রাজাবাজারের লকডাউন অমান্য করার একটি ভিডিও পোস্ট করেন রোশনি বিশ্বাস নামে এক মহিলা।
আদতে দিল্লির বাসিন্দা ওই মহিলা সোশাল মিডিয়ায় ওই ভিডিও দিয়ে পুলিশের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই কলকাতা পুলিশের তরফে গত ১৩ মে বালিগঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়। পাশাপাশি সমন পাঠানো হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। রোশনিদেবীও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হাইকোর্ট তাঁকে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতার নির্দেশ দেয়।
এই রায়ের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রোশনি বিশ্বাস। এই মামলাতেই বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কলকাতা পুলিশকে কড়া ভর্ৎসনা করেছে। বিচারপতিদের বক্তব্য, তুচ্ছ কারণে পুলিশ যদি সাধারণ মানুষকে সমন পাঠিয়ে হেনস্থা করা শুরু করে তাহলে নাগরিকের বাকস্বাধীনতা রক্ষা করতে আদালতকে হস্তক্ষেপ করতেই হবে।
পাশাপাশি বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, যদি বিদেশে বসে কেউ সরকারের বিরোধীতা করে সোশাল মিডিয়ায় সরব হন তবে কী তাঁকেও সমন পাঠানো হবে কলকাতা বা দিল্লিতে হাজিরা দিতে? এরপরই আদালতের মন্তব্য, এটা একটা ভয়ঙ্কর প্রবণতা। দেশটাকে স্বাধীন থাকতে দিন। উল্লেখ্য এর আগেও রাজ্য সরকারকে সমালোচনা করায় অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র এবং কংগ্রেস নেতা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি বহু সাধারণ নাগরিককে গ্রেফতার ও কেস দিয়ে হেনস্থা করা হয়েছে এই বঙ্গে।

إرسال تعليق
Thank You for your important feedback