বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটা নাগাদ বাঁকুড়া পৌঁছে যান অমিত শাহ। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে বাঁকুড়া পৌঁছান তিনি। এরপরই সরাসরি পৌঁছে যান পুয়াবাগান এলাকায় বিরসা মুণ্ডার মূর্তির পাদদেশে। সেখানে তাঁকে পুস্পবৃষ্টি ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে স্বাগত জানান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। পাশেই তখন ধামসা-মাদলের তালে চলছে আদিবাসী নৃত্যের আসর। এই সফরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষরাও রয়েছেন।
বিরসা মুণ্ডার মূর্তিতে পুস্পার্ঘ্য নিবেদন করেই অমিত শাহ তোপ দাগলেন রাজ্যের শাসকদলকে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ভগবান বিরসা মুন্ডার মূর্তি মাল্যদান করে বাংলায় দুদিনে সফর শুরু করলাম। কাল থেকে বাংলায় রয়েছি। যেখানে গিয়েছি এমনই অভিবাদন পেয়েছি। মমতা সরকারের প্রতি ভয়ঙ্কর আক্রোশ দেখতে পাচ্ছি। অন্যদিকে, মোদী সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থাও চোখে পড়ছে।
ভারত সরকারের আশ্বাস বাংলার মানুষ পর্যন্ত পৌঁছচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর সমস্ত যোজনা মমতা সরকার আটকে রাখছে আদিবাসীদের ঘর দেওয়া হয়নি, কৃষকরা ৬ হাজার টাকাও পায়নি। দেশের অর্থনীতির ভিত জোরদার করতে বাংলার অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া জরুরী। বাংলার বেকার যুবক-যুবতীদের কাজের সংস্থান করাই আমাদের লক্ষ্য। আগামীদিনে ‘সোনার বাংলা গড়বে বিজেপি সরকার’। এরপরই তিনি রবীন্দ্র ভবনে যান বিজেপির সাংসগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে।
অপরদিকে, বুধবার রাতে পুস্পবৃষ্টির মধ্যেই কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন অমিত শাহ। এরপর হোটেলে পৌঁছে রাতেই মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পুলিশি হেফাজতে মৃত পটাশপুরের বিজেপির বুথ সহ সভাপতি মদন ঘড়ুইয়ের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাঁকে জানানো হয় যে বিগত ২১ দিন ধরে মর্গে পচছে ওই বিজেপি কর্মীর দেহ। এমনকি কলকাতা হাইকোর্ট দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিলেও এখনও তা কার্যকর হয়নি।
রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব এবং ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি আশ্বাস দেন ‘ঠিক আছে, আমি দেখছি কী করা যায়’। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মদন ঘোড়ুইয়ের পরিবারের সদস্যরা। পরে এই সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও টুইটারে শেয়ার করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।



Post a Comment
Thank You for your important feedback